kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

সব আসনে ইভিএমে ভোটের ইঙ্গিত দিলেন শেখ হাসিনা

তৈমুর ফারুক তুষার   

৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব আসনে ইভিএমে ভোটের ইঙ্গিত দিলেন শেখ হাসিনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ ইঙ্গিত দেন। সভায় উপস্থিত দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

মাঝখানে কয়েক দফা বিরতি দিয়ে সভার কাজ চলে। সভা শেষ হয় রাত ১১টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে জোরালো প্রস্তুতি নিতে নেতাদের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সব আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হবে। ফলে যাদের জনপ্রিয়তা আছে তারাই কেবল জিততে পারবে। কোনো কারচুপির সুযোগ নেই। আমি সবার এলাকায় খোঁজ নিচ্ছি। কার কেমন জনপ্রিয়তা আছে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যাদের এলাকায় অবস্থান নেই তারা মনোনয়ন পাবে না। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের উন্নয়নকাজের প্রচার চালাতে হবে। আমরা অনেক উন্নয়ন করেছি। এগুলো সঠিকভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে আমরা আবারও ক্ষমতায় আসতে পারব। ’

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আগামী নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আসার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় একজন নেতা এ বিষয়ে ভিন্নমত দিলে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেন।

সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি জানান, দলের জাতীয় সম্মেলন যথাসময়েই হবে। জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সব শাখা কমিটির সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন কিংবা নৌকার বিরোধিতা করেছেন যারা তাদের তৃণমূলের সম্মেলনের কাজ থেকে দূরে রাখার নির্দেশ দেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতেও যেন নৌকার বিরোধিতাকারী কেউ স্থান না পায় সেটাও নিশ্চিত করতে বলেন শেখ হাসিনা।

তৃণমূলের সম্মেলনে যেন ব্যক্তিবিশেষের পছন্দের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া না হয় সে বিষয়েও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সতর্ক করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু নিজের লোক খুঁজবা না, দলের লোক খোঁজ। ’

আগামী জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি দেশকে নিয়ে আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার পরামর্শ দেন।

সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের ছয়জন সাংগঠনিক সম্পাদক তাঁদের বিভাগের সাংগঠনিক অবস্থার নানা তথ্য তুলে ধরেন।

সভায় সম্প্রতি চট্টগ্রামের পটিয়া ও নীলফামারীর ডোমারে মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

আ. লীগ কখনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি

কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে এর আগে শেখ হাসিনা বলেন, কখনো পেছনের দরজা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। আওয়ামী লীগ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নির্বাচনে প্রহসন ও ভোট কারচুপির কালচার শুরু করে। আওয়ামী লীগ কখনো ভোটে পেছনে ছিল না, নানা ষড়যন্ত্র করে ভোটে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আমরা এগিয়েছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ, খালেদা, তারেক সবাই মানুষ হত্যা করেছে। জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের সময় ক্ষমতা ছিল ক্যান্টনমেন্টে। পাকিস্তানি স্টাইলে মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ চালু করেছিল। ’

সরকারবিরোধীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্ব কোথায়? দুজনই (খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান) সাজাপ্রাপ্ত। এদের সঙ্গে ডান, বাম, অতিবাম এসে যুক্ত হয়েছে। সরকার উত্খাত করতে চায়, আমাদের অপরাধটা কী? কোথায় ব্যর্থ হয়েছি?’

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে অতিজ্ঞানী হলেও তারা কম বোঝে, তাকিয়ে থাকে কখন তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে। তারা বসে থাকে, কখন সিগন্যাল আসবে। বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করে, বিদেশ থেকে যেন তাদের ক্ষমতায় বসাবে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তাদের (বিএনপি-জামায়াত) কুকর্ম মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে।

এবারের ঈদুল ফিতরে সড়কে তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়ায় সভায় উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী।



সাতদিনের সেরা