kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

সাতক্ষীরার আমে মৌসুম শুরু

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাতক্ষীরার আমে মৌসুম শুরু

সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে আগাম জাতের আম আসতে শুরু করেছে। সুলতানপুর বড় বাজার থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কৃষি বিভাগের নির্দেশনা মেনে সাতক্ষীরায় আম পাড়ছেন চাষিরা। সাতক্ষীরা অঞ্চলের আম আগেভাগে পরিপক্ব হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকেই গাছ থেকে গোবিন্দভোগ আম নামিয়ে বাজারে বিক্রি শুরু হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে আম পাড়ার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

সরকারি নির্দেশনায় সাতক্ষীরায় আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয় জেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, ক্ষীরশাপাতি, গোলাপখাস, বৈশাখীসহ আগাম জাতের অন্যান্য আম, ১৬ মে থেকে হিমসাগর, ২৪ মে থেকে লেংড়া এবং ১ জুন থেকে আম্রপালি পাড়ার কথা।

বৃহস্পতিবার থেকে গোবিন্দভোগ ভাঙা শুরু করেছেন বলে জানান সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্তত ২৫ জন চাষি। সাতক্ষীরা জেলা আম চাষি সমিতির সভাপতি লিয়াকত হোসেন বলেন, করোনা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গত কয়েক বছর আম চাষিরা লোকসান গুনেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার আম পাড়ার পর চাষিরা বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। সদ্য পাড়া কাঁচা আমের দাম গত বছরের মতোই আছে।

সুলতানপুর বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, সরকারি নির্দেশনায় গোবিন্দভোগ আম ভাঙা শুরু হয়েছে। বড় বাজারের প্রতিটি আমের আড়তে শুধু গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রতি মণ কাঁচা আম বিক্রি হয় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায়। অন্য জাতের আম পাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আর্থিক সংকট মেটাতে অনেকে গোপনে বাগান থেকেই হিমসাগর আম পেড়ে বিক্রি করছেন। ওই আম খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হলেও ১৬ মের আগে আড়তে বিক্রি হবে না।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, এবার জেলায় আমের ফলন কিছুটা কম। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক গাছেই ফলন হয়নি। যেসব গাছে আম হয়েছে, সেগুলো আকারে ছোট। ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ জন্য চাষিদের আগাম জাতের আম পাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে অপুষ্ট হিমসাগর আমও পাড়ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে আম রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আম রপ্তানির জন্য এবারও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে শুধু নির্ধারিত বাগানের আম বিদেশে রপ্তানি হবে। ’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত পাঁচ হাজার ২৯৯টি আমবাগান এবং ১৩ হাজার আম চাষি রয়েছেন।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আরিফুর রহমান বলেন, গত ২৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সাতক্ষীরায় নিরাপদ আম বাজারজাতকরণবিষয়ক মতবিনিময়সভা হয়। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ মে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, ক্ষীরশাপাতি, গোলাপখাস, বৈশাখীসহ অন্যান্য স্থানীয় জাতের আম, ১৬ মে হিমসাগর, ২৪ মে লেংড়া ও ১ জুন আম্রপালি আম গাছ থেকে পেড়ে বাজারে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কোনো ব্যবসায়ী বা চাষি অপরিপক্ব আম পাড়েন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র কারণে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। একই কথা জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, অপরিপক্ব আম না পাড়াই শ্রেয়।



সাতদিনের সেরা