kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

করোনার ধাক্কায় স্থগিত চীনে এশিয়ান গেমস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনার ধাক্কায় স্থগিত চীনে এশিয়ান গেমস

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই প্রতিবেশী দেশ চীন ও ভারতে করোনার প্রতাপ কমছেই না। চীনে কঠোর লকডাউনসহ শূন্য সংক্রমণ নীতির পরও করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে সম্প্রতি। দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক শহর সাংহাইয়ে কয়েক সপ্তাহ টানা লকডাউন চলার পর সীমিতভাবে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তবে করোনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাংহাই থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরের শহর হাংঝুতে হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসই স্থগিত হয়ে গেল।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার ঘটনা ঘটছে। ভারতে তুলনামূলকভাবে সংক্রমণের হার যেসব জায়গায় বেশি তার একটি নয়াদিল্লি। তবে দিল্লিতে কয়েক দিন ধরে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নতুন ঢেউয়ের ইঙ্গিত বহন করে না।

থমকে গেল এশিয়ান গেমস

আগামী ১০ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল ‘এশিয়ার অলিম্পিক’খ্যাত এশিয়ান গেমস। শুরু হওয়ার ১২৭ দিন আগে গতকাল শুক্রবার এটি স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) নির্বাহী কর্তারা উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেন টুর্নামেন্টটি পিছিয়ে দেওয়ার। এ নিয়ে ওসিএর বিবৃতি, ‘চীনের অলিম্পিক কমিটি ও হাংঝু এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটির সঙ্গে আলোচনার পর এশিয়ান গেমস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওসিএ। ’

ঠিক কত দিনের জন্য পেছাল এশিয়ান গেমস তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। ওসিএর বিবৃতি বলছে, ‘চীনের অলিম্পিক কমিটি, হাংঝু এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটি আর ওসিএর কর্তারা মিলে নিকট ভবিষ্যতে নতুন তারিখ জানাবেন। ’

গতকাল স্থগিত করা হয়েছে চীনের শানটুতে ২০-২৮ ডিসেম্বর হতে যাওয়া এশিয়ান যুব গেমসও। তাই ২০২৩ সালের আগে যে এশিয়ান গেমস শুরু হচ্ছে না, এটা নিশ্চিত।

চীনে করোনায় মৃত্যুসংখ্যা গত কয়েক দিনে কমলেও সম্প্রতি বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিদ্ধান্ত হয়েছে সাংহাইয়ের সবার বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষার। এ জন্য নতুনভাবে তৈরি করা হয় ১০ হাজার কেন্দ্র। এমন সময় এশিয়ান গেমস হলে ৬১টি ইভেন্টে অংশ নিতেন ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলেট। বিদেশ থেকে আসা খেলোয়াড়দের সংস্পর্শে করোনার সংক্রমণ আরো বাড়ার শঙ্কায়ই হয়তো পিছিয়ে দেওয়া হলো গেমসটি।

এর আগে ১৯৯০ সালে চীনের বেইজিং আর ২০১০ সালে গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এশিয়ান গেমস। উৎসবের আবহে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্ট দুটি। বৈশ্বিক এই মহামারির মধ্যে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে চীনেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল শীতকালীন অলিম্পিক। কঠোর জৈব সুরক্ষা বলয়ে ছিলেন খেলোয়াড় ও কর্তারা। কিন্তু দুই মাস ধরে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ান গেমস নিয়ে আর ঝুঁকি নিল না চীন ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া।

এর আগে করোনার ধাক্কায় এক বছর পিছিয়ে গিয়েছিল অলিম্পিক, ইউরো, কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্ট।

মেয়রের দাবি সংক্রমণ কমার

সাংহাই শহরের ভাইস মেয়র উ কিং অবশ্য বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ২২ এপ্রিল থেকে সেখানে করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের শহরের করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির নিয়মিত উন্নতি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাংহাইয়ে উপসর্গবিহীন চার হাজার ২৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, যা বুধবারের চেয়ে সামান্য কম। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এক দিন আগে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৩।

দিল্লি : সংক্রমণ বৃদ্ধি, নতুন ঢেউয়ের ভয় নেই

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গতকাল শুক্রবার এক হাজার ৬৫৬ জনের কভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে গতকাল সেখানে কোনো মৃত্যু ঘটেনি। নয়াদিল্লিতে করোনা পজিটিভের হার ছিল ৫.৩৯ শতাংশ। মোট সংক্রমণের সংখ্যা ছিল আগের দিনের তুলনায় বেশি। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন সংক্রমণের মধ্য দিয়ে ভারতের রাজধানীর সামগ্রিক কভিড-১৯ সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে ১৮ লাখ ৯১ হাজার ৪২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা উঠেছে ২৬ হাজার ১৭৭।

বৃহস্পতিবার এক হাজার ৩৬৫ জনের কভিড সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ সংখ্যা গতকালের তুলনায় কম হলে পরীক্ষার বিপরীতে পজিটিভের হার ছিল বেশি, ৬.৩৫ শতাংশ।

বুধবার একজনের মৃত্যু হয়। কভিড পজিটিভ হয় এক হাজার ৩৫৪ জন। তার আগের দিন মঙ্গলবারও একজনের মৃত্যু হয়।

দিল্লিতে হাসপাতালে ভর্তির হার এখন পর্যন্ত কম। মোট সক্রিয় ঘটনার ৩ শতাংশেরও নিচে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে কভিড সংক্রমণ বাড়ার ঘটনা ও পজিটিভ হওয়ার হার নতুন ঢেউয়ের ইঙ্গিত বহন করে না। তবে লোকজনকে বিভিন্ন রকম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এর আগে বিশিষ্ট মহামারি বিশেষজ্ঞ চন্দ্রকান্ত লাহারিয়া বলেছেন, পজিটিভ হওয়ার হার কিছুটা স্থবির পর্যায়ে রয়েছে। এর মানে হচ্ছে, লোকে সংক্রমিত হলেও তা একই হারে ছড়াচ্ছে। কোনো নতুন ঢেউ আসেনি।

দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দর জেইন বলেন, রাজধানীতে কভিড সংক্রমণ বাড়লেও পরিস্থিতি তত খারাপ নয়। কারণ রোগীদের অসুস্থতা গুরুতর পর্যায়ে যাচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তির হারও কম। তিনি হাসপাতালে ভর্তির নিম্নহারের পেছনে টিকাদান ও প্রাকৃতিকভাবে অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, এনডিটিভি



সাতদিনের সেরা