kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

অভিমত

মাঠ রক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা প্রয়োজন

আদিল মুহাম্মদ খান

২৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠ রক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা প্রয়োজন

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার গুরুত্বের কথা আমরা সব সময়ই বলি। কিন্তু রাজধানীতে দিন দিন শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও খেলাধুলার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। যে কয়েকটি হাতে গোনা খেলার মাঠ অবশিষ্ট আছে, সেগুলোর বেশির ভাগই দখল বা নানা কারণে খেলার মাঠ হিসেবে আর ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠটি ওই এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার অন্যতম স্থান।

বিজ্ঞাপন

তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষায় যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। এই মাঠ রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক উদ্যোগ থাকলে এই ঘটনা এড়ানো যেত বলেই আমার বিশ্বাস। পাশাপাশি তেঁতুলতলা মাঠে থানা না করে বিকল্প জায়গা খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানকেও আমি স্বাগত জানাই।

আমাদের রাষ্ট্রের মনে রাখা প্রয়োজন, শিশু-কিশোরদের জন্য যদি আমরা উপযুক্ত খেলার জায়গা না তৈরি করতে পারি, তবে খেলাধুলাবিহীন দৈহিক ও মানসিকভাবে দুর্বল, পঙ্গু, বিপর্যস্ত, পথহারা, দিগভ্রান্ত প্রজন্মের জন্য একটি এলাকায় একটি থানা কখনোই পর্যাপ্ত হবে না। তখন প্রয়োজন হবে মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসী, অপরাধী ও বিপথগামীদের জন্য একই এলাকায় অনেক থানা। রাষ্ট্রকে তাহলে সেই আয়োজনের জন্যও এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

এরই মধ্যে ঢাকার যে মাঠগুলো দখল হয়েছে, তা উদ্ধারে বা যেগুলো অবশিষ্ট আছে তা রক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা প্রয়োজন। কারণ দখলদাররা রাজনৈতিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী থাকে। মাঠগুলো তত্ত্বাবধান করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এলাকাবাসীর একটি কমিটি থাকা দরকার। সেই কমিটিগুলো যতক্ষণ না হবে, ততক্ষণ অবশিষ্ট মাঠগুলোও রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ঢাকা শহরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি পাড়া-মহল্লায় প্রতি সাড়ে ১২ হাজার মানুষের জন্য দুই থেকে তিনটি খেলার মাঠ থাকা উচিত, যার মোট আয়তন হওয়ার কথা তিন একর। অতি ঘন এলাকা কলাবাগানে আনুমানিক ৩০ হাজারের মতো মানুষের বাস। প্রতি পাঁচ হাজার মানুষের জন্য একটি খেলার মাঠ দেওয়া হলেও এই এলাকায় ছয়টি খেলার মাঠ থাকার কথা; আকার-আয়তনে যা হওয়ার কথা ছয় থেকে ১০ একর। তেঁতুলতলা মাঠের আয়তন এক বিঘার মতো, ফলে এই স্থানও পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী শিশু-কিশোরদের খেলার মতো পর্যাপ্ত নয়।

আধুনিক নগর পরিকল্পনায় খেলার মাঠ-পার্ক-উদ্যানকে স্বাস্থ্য অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়, পাশাপাশি এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সমাজে অপরাধের প্রবণতাও কমায় বহুলাংশে। এ ধরনের মাঠকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্পর্ক-যোগাযোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ফলে খেলার মাঠকে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা অবকাঠামো হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

আমি মনে করি, কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠটির মালিকানাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলার জন্য ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় খেলার মাঠ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কোনো অবস্থায়ই স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশকে এই মাঠ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো যাবে না, যা আমাদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে অকল্যাণ বয়ে আনবে।

লেখক : পরিকল্পনাবিদ ও নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)



সাতদিনের সেরা