kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

বিশ্লেষণ

ইমরান খানের পতনে ভূমিকা রেখেছে যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইমরান খানের পতনে ভূমিকা রেখেছে যা

ইমরান খান যখন ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তখন প্রায় সব কিছুই ছিল তাঁর অনুকূলে। নতুন এক তরতাজা শক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছিল তাঁকে। ইমরানও দুর্নীতি দূর করে দেশে ‘পরিবর্তন’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আশা দিয়েছিলেন ‘নতুন পাকিস্তান’ তৈরির।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করে যেতে পারেননি। অনেকের ধারণা ছিল, ইমরান খান হয়তো সে রকম হবেন না, তিনি পারবেন। ঠিক যে কারণে তাঁর অবস্থানকে এত দৃঢ় বলে মনে করা হচ্ছিল, এখন সেই একই কারণে তাঁর পতন হয়েছে বলে ধরা হচ্ছে।

দুই পক্ষই অস্বীকার করলেও এটা ব্যাপকভাবে মনে করা হয় যে ইমরান খান ক্ষমতায় এসেছিলেন পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও সামরিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের সহায়তায়। তবে ক্রমে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে তাঁর।

সমর্থন

ইমরান খান যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন নিঃসন্দেহে জনসমর্থন তাঁর পক্ষে ছিল। সেই সঙ্গে তাঁর ওপর ছিল সামরিক বাহিনীর সমর্থন। ফলে ইমরান খানের সরকার ‘হাইব্রিড’ আখ্যা পেয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানকে বরাবর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ত্যাগ করা এক সদস্য এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তাঁকে তারাই তৈরি করেছিল। তারাই ক্ষমতায় এনেছিল। ’

ইমরানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফ সাবেক স্বৈরশাসকের শিষ্য হিসেবে রাজনীতিতে এলেও পরে স্বাধীনচেতা হয়ে ওঠেন। ক্রমে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়াতেই একসময় মামলাসহ নানা ঝামেলায় জড়ান তিনি। অন্যদিকে ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খান গর্বের সঙ্গে ঘোষণা দেন, নীতির বিষয়ে তাঁর ও সামরিক বাহিনীর বোঝাপড়া এক।

শাসন

ইমরান খান বলেছিলেন, তিনি সুশাসনে মনোযোগী হবেন। দেশের সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যবস্থায় কিছু ইতিবাচক উন্নয়নও তিনি করেছিলেন, কিন্তু অন্যান্য খাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য এক নতুন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হন ইমরান। এ কাজ কেন করেছেন, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দেননি তিনি। এমনকি তাঁর নিযুক্ত উসমান বুজদারকে অপসারণ করতেও রাজি হননি। কথিত রয়েছে, ইমরানের ‘আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী’ স্ত্রী তাঁকে বুজদারকে সরাতে নিষেধ করেছিলেন। তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, বুজদারকে সরালে সরকার পতন ঘটবে।

এটি বাদেও আরো চ্যালেঞ্জ ছিল ইমরান খানের। জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুতগতিতে বাড়ছিল। খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল অনেক। ডলারের বিপরীতে পড়ে গিয়েছিল রুপির মান। ইমরান খানের সমর্থকরা এ জন্য দোষ দিয়েছিলেন বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে। এগুলোকে ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে তৈরি হচ্ছিল জনরোষ। কিন্তু নাটকীয় পরিবর্তন হয় গত বছর। একাধিক পর্যবেক্ষণকারীর তথ্যানুসারে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইমরানের ব্যর্থতা নিয়ে হতাশ হতে শুরু করে সেনাবাহিনী। বিশেষ করে পাঞ্জাব প্রশ্নে। এ ছাড়া বিরোধী দল যেভাবে ইমরানকে ক্ষমতায় আনার জন্য সেনাবাহিনীর ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছিল, সেটিও পছন্দ হচ্ছিল না তাদের।

ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়া এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়েজ হামিদের মধ্যে পরবর্তী সেনাপ্রধান হওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে থাকে।  

লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদ নিজের ব্যাপারে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। পার্শ্ববর্তী দেশ আফগানিস্তানের কর্তাব্যক্তিদেরও আগেভাগেই জানিয়ে রেখেছিলেন, তিনিই হচ্ছেন পরবর্তী সেনাপ্রধান।

তবে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের কাছ থেকে জানা যায় ভিন্ন তথ্য। সূত্র জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদকে ধরা হতো এমন ব্যক্তি হিসেবে, যিনি কি না দক্ষতার সঙ্গে ‘নোংরা কাজ’ সামাল দিতে পারেন। যেমন রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা সমালোচকের কণ্ঠ রোধের মতো বিষয়গুলো। তাঁকে ঠিক সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার মতো উপযুক্ত মনে করা হতো না।

জেনারেল বাজওয়া ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। গত অক্টোবরে এটি প্রকট হয় এবং ইমরান খান এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ওই সময় জেনারেল বাজওয়া গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নতুন কাউকে চাইছিলেন এবং সেনাবাহিনী এ পদে রদবদলের ব্যাপারে ঘোষণা দেয়।

কিন্তু ইমরান খান এর বিরোধিতা করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়েজ হামিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর ইচ্ছা ছিল, ফায়েজ হামিদ যেন নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই পদে থাকেন। ধারণা করা হয়, ফায়েজ হামিদ যাতে আরেকবার নির্বাচনী বিজয় নিশ্চিত করতে পারেন, সে জন্যই এ অবস্থান নিয়েছিলেন ইমরান। সূত্র : বিবিসি।

 

 



সাতদিনের সেরা