kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুলভে মাংস দুধ ডিম বিক্রি

পণ্য কম, চাহিদা বেশি

সজীব আহমেদ   

৬ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পণ্য কম, চাহিদা বেশি

ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিত্যপণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রোজার মাসে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির পর এবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর ১০টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে সুলভে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করছে। এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাজারদরের চেয়ে কম দামে এসব পণ্য কিনতে পেরে অনেকের ভরসার স্থল হয়ে উঠেছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

তবে চাহিদার তুলনায় এসব বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্য কম থাকায় লাইনে দাঁড়ানো অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

খুচরা বাজার ও মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মূল্য তুলনা করে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এই মাংস ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি। বাজারে খাসির মাংস ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি। ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। বাজারে ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যায় ২০০ টাকায়। বাজারে প্রতি লিটার দুধ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে লিটার ৬০ টাকা। বাজারে প্রতি হালি ডিম ৩৫ টাকা, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে ৩০ টাকা।

ভ্রাম্যমাণ এসব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পণ্য কেনা গেলে একজন ক্রেতার যথেষ্ট সাশ্রয় হয়। ফলে বাধ্য হয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও পণ্য কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের লাইনে। এসব বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্যের যে পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে, লাইনে তার চেয়ে বেশি মানুষ দাঁড়ানোয় অনেককে পণ্য ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গেলে যাত্রাবাড়ী ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে সুলভে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের গাড়ির পেছনে দেখা মেলে মানুষের দীর্ঘ লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষগুলো কিনছে পছন্দ অনুযায়ী দুধ, ডিম, মাংস।

লাইনে দাঁড়িয়ে গরুর মাংস ও দুধ কিনলেন রংমিস্ত্রি সিরাজুল ইসলাম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি গরুর মাংস কিনতে এসেছিলাম। বাজারে ৬৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আর ৬০ টাকায় এক লিটার দুধ পাওয়ায় গরুর মাংসের সঙ্গে দুই লিটার দুধও কিনলাম। এক কেজি গরুর মাংস আর দুই লিটার দুধ কিনে আমার সাশ্রয় হয়েছে ১৩০ টাকা। ’

সালেহা খাতুন নামের এক গৃহিণী ১২০ টাকায় দুই লিটার দুধ আর ১৫০ টাকায় ২০টি ডিম কিনেছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে। এ দুটি পণ্য কিনতে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘রোজা রেখে এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে কষ্ট হয়েছে, কম দামে দুধ ও ডিম কিনতে পেরে সে কষ্ট দূর হয়ে গেছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের এই উদ্যোগ অনেক ভালো। তবে গাড়ির সংখ্যা আরো বাড়ালে মানুষের ভোগান্তি কমত, পণ্য না পেয়ে কাউকে খালি হাতে ফিরতে হতো না। ’

লাইনে দাঁড়ানো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা সাব্বির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সুলভে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু গাড়িতে পণ্যের পরিমাণ খুব কম। এক ঘণ্টাও হয়নি গাড়ি এসেছে। এখন শুনছি গরুর মাংস শেষ। লাইনে যারা দাঁড়িয়ে আছে, বেশির ভাগ মানুষ গরুর মাংস কিনতে দাঁড়িয়েছে। মাংস শেষ শুনে অনেকে লাইন ছেড়ে চলে গেছে। ’

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের ক্যাশিয়ার রাকিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সব পণ্য শেষ। চাহিদা বেশি গরুর মাংস ও দুধের। ’ 

তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমাদের গাড়িতে ছিল ৫০ কেজি গরুর মাংস, খাসির মাংস পাঁচ কেজি, ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি ২৫ কেজি, এক হাজার ৩০০ পিস ডিম এবং ২০০ লিটার দুধ। সকাল ১১টায় বিক্রি শুরু করে দুপুর ১টার আগেই শেষ হয়ে গেছে। তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই গরুর মাংস বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। ’

রাকিব আরো বলেন, ‘একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ এক কেজি গরুর মাংস বা খাসির মাংস, এক কেজি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, ২০টি ডিম এবং দুই লিটার দুধ কিনতে পারছে। ১৫০ টাকা মিল রাখতে একজনকে ২০টি ডিম দেওয়া হয়। ’

গতকাল সচিবালয় সংলগ্ন আব্দুল গনি রোড, খামারবাড়ি গোল চত্বর, জাপান গার্ডেন সিটি, মিরপুর ৬০ ফুট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, আরামবাগ, নতুন বাজার, মিরপুরের কালশীতেও ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করা হয়েছে। রোজার প্রথম দিন শুরু হওয়া এই উদ্যোগ চলবে ২৮ রমজান পর্যন্ত।

পশু ও হাঁস-মুরগির খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে মাংস, ডিম, দুধ ও মাছের দাম। এর প্রভাব পড়েছে রোজার বাজারেও। এমন পরিস্থিতিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এসব পণ্য সুলভে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এ কাজে সহায়তা করছে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে মানুষের মাঝে দুধ, ডিম ও মাংস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য সুলভে মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। ’

তিনি বলেন, ‘খামারিদের কাছ থেকে এভাবে সরাসরি যদি ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানো যায়, তাহলে এই সুলভ মূল্যেই পৌঁছানো সম্ভব। এ জন্য সরকারকে বাজারজাতকরণ সহজ করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে তদারকিও বাড়াতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা