kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

অভিমত

পরিচালন ব্যয় বেশি, বিকল্প ভাবা দরকার

শামছুল হক

৩১ মার্চ, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিচালন ব্যয় বেশি, বিকল্প ভাবা দরকার

শামছুল হক

সাবওয়ে কোনো অবকাঠামো নয়, এটি একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা। গণপরিবহনের বিষয়গুলো উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না। এটি নির্ভর করে গণপরিবহনব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে কি না তার ওপর। মেট্রো রেল মাটিতে হতে পারে; আবার মাটির ওপর বা নিচেও হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মেট্রো রেল নির্মাণ ও দেখভাল করতে ডিএমটিসিএল (ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট লিমিটেড কম্পানি) নামে আলাদা একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, প্রত্যেকে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে গিয়ে ভেজাল লাগিয়ে ফেলে। এই সাবওয়ে সিস্টেমের দায়িত্ব একটা প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকার কথা ছিল। অথচ অন্য একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাহলে কিছুদিন পর রাজউকও বলবে আমরাও মেট্রো করব। ডিটিসিএ (ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ) বলবে, আমরাও একটা মেট্রো করব। সমন্বিত কাজ না করার ফলে ঢাকা গণপরিবহন খাতে বিনিয়োগ করেও আমরা ফল পাচ্ছি না।

আমরা ঢাকায় সাবওয়ে করতেই পারি। আমাদের মাটির গুণ ভালো। তবে এটি খুব কঠিন হবে। পরামর্শকরা বসে বসে কাগজে সুন্দর সুন্দর দাগ দিয়ে দেন। পরে করার সময় বোঝা যায়, এটি সম্ভব না। সাবওয়ে অতন্ত কঠিন জিনিস। বানাতে আড়াই গুণ বেশি খরচ লাগে। নির্মাণ ব্যয় বহন করা গেলেও সাবওয়ে পরিচালন ব্যয় বহন করা কঠিন। এটি অনেকটা হাতি পালার মতো। সাবওয়ের বিকল্প কিছু করা যায় কি না সেটি ভাবা যেতে পারে।

সেতু কর্তৃপক্ষ সাবওয়ের কাজ করছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। সমন্বিতভাবে ঢাকার পুরো মেট্রো গণপরিবহনকে একসঙ্গে পরিচালনা করার জন্য ডিএমটিসিএল তৈরি করা হয়েছে। রাজউকের আরএসটিপিতে (সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা) নেই, এমন অনেক কিছুই আমরা এর আগে করে ফেলেছি। সাবওয়েও আরএসটিপিতে নেই। আরএসটিপি খুব জটিল জিনিস। তাই ৫০-১০ বছর পর পর এটিকে সংশোধন করে এগোতে হয়।

ঢাকার সমস্যা সমাধানের মূল জটিলতাই হলো প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা। আমরা হাতে ধরে আরেকটা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করছি। একটা জিনিস যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, আমরা সেটিকে পেঁচিয়ে ফেলি। বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট), উবারের মতো রাইড শেয়ার আমরা পেঁচিয়ে ফেলছি। এর পেছনের কারণ হচ্ছে, শহরকেন্দ্রিক গণপরিবহন নিয়ে কাজ করার গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশে তেমন কারো নেই।

যানজট দূর করতে সত্যিকারের আগ্রহ থাকলে আগে ফুটপাত ঠিক করা; রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এগুলো আরএসটিপিতে আনা হচ্ছে না। এখন যাঁরা এসব কাজ করছেন, তাঁরা অবকাঠামোর প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপনার প্রকৌশলী নন।

লেখক : অধ্যাপক, বুয়েট ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ



সাতদিনের সেরা