kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

বিশেষজ্ঞ মতামত

সংসদে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল সরকারি দলের

ইফতেখারুজ্জামান

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংসদে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল সরকারি দলের

ইফতেখারুজ্জামান

চলতি সংসদের গত তিন বছরের কার্যক্রম নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। তাই সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলা যায়, এই সংসদের কাছে যতটুকু প্রত্যাশা করা হয়েছিল, ততটুকুই আমরা দেখেছি। এর বাইরে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা সম্ভব ছিল না।

বিজ্ঞাপন

সংসদের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বিগত দিনে কাজ হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে কমবেশি আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল সরকারি দল বা জোটের। এ কারণে সংসদে সত্যিকার অর্থে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়নি। সংসদীয় কমিটিগুলো খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। আইন পাস হলেও তা নিয়ে যথাযথ আলোচনা হয়নি।

চলতি সংসদের বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষ করে আগের সংসদের তুলনায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ সক্রিয় দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলেছে। কিন্তু সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের পক্ষে প্রত্যাশিত সক্রিয় ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের প্রয়াস ছিল, এটি বলতেই হবে।

এই সময়ে সংসদের জন্য কিছু অবমাননাকর ঘটনা ঘটেছে। একজন সংসদ সদস্য দেশের বাইরে কুয়েতে জালিয়াতি, মানবপাচার ও অর্থপাচারের কারণে দণ্ডিত হয়েছেন। কিন্তু সেটি নিয়ে সংসদে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। একটি বিশেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ ওই এমপির শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদকে কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। শুরু থেকে সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সংসদে বিষয়টি আলোচনা হওয়ার দরকার ছিল, সেভাবে হয়নি। পরে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সংসদ সদস্যরা এ ধরনের জালিয়াতি করতে পারেন—বিয়ষটি নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বিদেশে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা থেকে শুরু করে শাস্তি হওয়া—এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সংসদের যে ধরনের ভূমিকা দরকার ছিল, সেটি আমরা দেখতে পাইনি।

একটি বিষয় লক্ষণীয় ছিল, কভিড পরিস্থিতির কারণে সংসদ পরিচালনা ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্থবিরতা দেখা গেছে। সেটা যৌক্তিকভাবে হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এর মধ্যেও অনেক বিষয়ে সংসদে যথাযথ ভূমিকা দেখা যায়নি। যেমন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রচুর দুর্নীতি-অনিয়ম, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিষয়গুলো মানুষের কাছেও মোটামুটি পরিষ্কার ছিল। এসব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও ছিল। এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সরকারি মহলে সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত এই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়নি। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও কোনো বৈঠক করেনি।

শুধু স্বাস্থ্য নয়, অন্যান্য কমিটিও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেনি। অনেক দিন পর্যন্ত কমিটিগুলো বৈঠক করতে পারেনি। গতানুগতিকভাবে কমিটিগুলো একই ধরনের ভূমিকা রাখছে। করোনাকাল বাদে স্বাভাবিক সময়েও কমিটিগুলো নিয়মিত বৈঠক করেনি। মন্ত্রণালয়গুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিটির মৌলিক ভূমিকা থাকে। জনগণের পক্ষ হয়ে কমিটি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। সেই কাজগুলো সংসদীয় কমিটিকে কার্যকরভাবে করতে দেখা যায়নি। কম-বেশি বৈঠক হলেও কমিটিকে প্রত্যাশিতভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি।

 



সাতদিনের সেরা