kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

সুন্দরবনে খাল থেকে মৃত বাঘ উদ্ধার

২০ বছরে ৪০ বাঘের মৃত্যু

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুন্দরবনে খাল থেকে মৃত বাঘ উদ্ধার

সুন্দরবনে গতকাল সকালে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাট জেলাধীন দুবলারচরের কাছে রুপার খাল থেকে বাঘটির মৃতদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ। বাঘটি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছে বলে বন বিভাগের ধারণা। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে বাঘটির ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

বন বিভাগের তথ্য অনুসারে, ২০০১ সাল থেকে গতকাল ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে নানাভাবে ৪০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে ২৪টি এবং পশ্চিম বন বিভাগে ১৬টি বাঘের মৃত্যু হয়। কখনো চোরাশিকারির হাতে বাঘের প্রাণহানি ঘটেছে। আবার সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে বের হলে গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছে বাঘ। আর ঝড়-জলোচ্ছ্বাসেও বাঘের মৃত্যু হচ্ছে। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে এবং বার্ধক্যজনিত কারণে বাঘ মারা যাচ্ছে সুন্দরবনে। এই সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২০টি বাঘের চামড়া।

২০১৮ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুসারে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি। তবে এখন সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কত তা বলতে পারেনি বন বিভাগ। বাঘ রক্ষায় নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে বলে আশা করছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বন বিভাগের সদস্যরা শুক্রবার সকালে টহল দেওয়ার সময় রুপার খালে মৃত অবস্থায় একটি বাঘ ভাসতে দেখেন। তাঁরা দ্রুত মৃত বাঘটি উদ্ধার করেন। বাঘটি পুরুষ এবং আনুমানিক বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বাঘটির ময়নাতদন্ত করা হবে।

বেলায়েত হোসেন জানান, বন বিভাগের সদস্যরা বাঘটিকে কূলে ওঠানোর পর ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, বাঘের শরীরের কোথাও কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই। তাঁদের ধারণা, বাঘটি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছে।

বন বিভাগ জানায়, গত বছরের মার্চে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ভোলা নদীর ধনচেবাড়িয়ার চর থেকে মৃত অবস্থায় একটি বাঘ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০২০ সালে মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের আওতাধীন এলাকায় বনে দুটি বাঘ মরে পড়ে ছিল।

ডিএফও বেলায়েত হোসেন জানান, বাঘ রক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুন্দরবনে বাঘসহ বন্য প্রাণীর আবাসস্থল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ছয় লাখ এক হাজার ৭০০ হেক্টর বনের মধ্যে এখন তিন লাখ ১৭ হাজার ৯০০ হেক্টর অভয়ারণ্য এলাকা। আগে ছিল মাত্র এক লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ হেক্টর। ২০১৭ সালে সরকার সুন্দরবনে অভয়ারণ্য এলাকা সম্প্রসারণ করে। বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ফাঁড়ির কার্যক্রমের পাশাপাশি স্মার্ট প্যাট্রল করা হচ্ছে সুন্দরবনে। বাঘ যাতে সুন্দরবন ছেড়ে লোকালয়ে বের হতে না পারে সে জন্য বনের সীমানা এলাকায় বন বিভাগের টহল বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, সুন্দরবনে প্রতিটি বাঘ তাদের আবাসস্থলের জন্য ১৪ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার (হোমরেঞ্জ) চিহ্নিত করে সেখানে বাস করে। আর গোটা সুন্দরবনেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে লবণাক্ততা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং নদীর স্রোত প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করছে বাঘ। নদী-খাল ভরাট হওয়ার কারণে বাঘ মাঝে মধ্যে সুন্দরবন ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। গ্রামবাসীর হাতে মাঝে মধ্যে বাঘের প্রাণহানি ঘটে। আর চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, বাঘের আটটি উপপ্রজাতির তিনটি এরই মধ্যে বিশ্ব থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশে বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। বন উজাড়, শিকারি ও পাচারকারীদের কারণে বাঘ মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

 

 



সাতদিনের সেরা