kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

আলোচনা চালিয়ে যাবে রাশিয়া

ইউক্রেনকে ন্যাটোতে না টানার দাবি নাকচ যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউক্রেনকে ন্যাটোতে না টানার দাবি নাকচ যুক্তরাষ্ট্রের

রাশিয়া তার প্রতিবেশী ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত না করার যে দাবি তুলেছে আনুষ্ঠানিকভাবে তা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন গত বুধবার রাশিয়ার দাবির বিষয়ে তাঁর দেশের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন। ব্লিংকেন বলেছেন, তাঁরা রাশিয়াকে ‘কূটনৈতিক পথে’ আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। আর উচিত রাশিয়ার তাতে সাড়া দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

এর জবাবে রাশিয়া দৃশ্যত হতাশা প্রকাশ করলেও বলেছে তারা আলোচনার পথ খোলা রাখবে।

রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, তার দেশের মূল নীতিতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার অধিকার রক্ষার পক্ষে। তবে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সমান মনোযোগ দিচ্ছে, যাতে তারা রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবেলা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখন নির্ভর করছে রাশিয়ার ওপর। তারাই ঠিক করবে, তারা কিভাবে সাড়া দেবে। যে সিদ্ধান্তই তারা নিক, আমরা প্রস্তুত আছি। ’

রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবেলায় সহায়তা করতে ইউক্রেনে চলতি সপ্তাহে ‘সামরিক সহায়তার’ তিনটি চালান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্যও ইউক্রেনকে অস্ত্র-সরঞ্জাম ও সামরিক প্রশিক্ষক পাঠিয়েছে।

ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্ত হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান জানানোর পর  প্রতিক্রিয়ায় গতকাল রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা নিয়ে তাদের প্রধান উদ্বেগকেই মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে রাশিয়া উত্তেজনা কমাতে আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ন্যাটোর মাধ্যমে যে জবাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, তা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করবেন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় নিজেদের আপত্তি আর দাবির একটি তালিকা লিখিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল রাশিয়া। সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশ ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পথ পাকাপাকিভাবে বন্ধ করার দাবিও সেখানে ছিল। সেখানে ন্যাটোর সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে না—এমন প্রতিশ্রুতিও চেয়েছিল রাশিয়া। গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ফোনালাপের আগে-পরে মস্কো এসব দাবি সামনে আনে।

গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখের বেশি সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা দেশগুলো বলে আসছে, রাশিয়া যেকোনো সময় ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তারা মনে করছে। তবে রাশিয়া তা অস্বীকার করে আসছে।

ন্যাটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, তাঁদের জোটের বক্তব্য লিখিতভাবে মস্কোতে পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয়গুলো তাঁরা শুনতে চান। তবে নিজেদের মতো করে প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার অধিকার সব দেশেরই আছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে আখ্যায়িত করেন।

এদিকে প্যারিসে সংঘাত এড়ানোর কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে, তার ফলাফলের প্রশংসা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। সূত্র : এএফপি, বিবিসি

 

 



সাতদিনের সেরা