kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সাক্ষাৎকার

সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল

সংসদে পাস হওয়া ইসি গঠন আইন নিয়ে কাজী হাফিজের সঙ্গে কথা বলেছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল

আবদুল মতিন

কালের কণ্ঠ : স্বাধীনতার পর ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আপনি দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে এই আইন প্রণয়ন বিষয়ে নানা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। আইনটি পাস হওয়ার পর আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মো. আবদুল মতিন : সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে আইন প্রণয়নের দাবি দীর্ঘদিনের।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু যেভাবে দাবি পূরণ হয়েছে, সে ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। আমরা জানতাম সরকার যেভাবে চেয়েছে, সংসদে সেভাবেই পাস হবে। সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তার পরও মানুষকে প্রকৃত অবস্থা জানাতে আমরা প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে আমাদের মতামত জানিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম সংসদে আমাদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব সংযোজন, বিয়োজন হবে, কিন্তু সেটি হয়নি। এই প্রশ্নবিদ্ধ আইন ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। এই আইনে অনুসন্ধান কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে। এর ফলে অনুসন্ধান কমিটির কিছুই করার থাকবে না। ড. এ টি এম শামসুল হুদার নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব ছিল, অনুসন্ধান কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে দিতে হবে। আমাদেরও একই প্রস্তাব ছিল। সংসদে পাস হওয়া আইনে সে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে অনুসন্ধান কমিটির আসলে কিছুই করার থাকবে না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে তালিকা করে দেবে, সেই তালিকা নিয়েই অনুসন্ধান কমিটিকে কাজ করতে হবে। অনুসন্ধান কমিটি সম্ভাব্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য যে ১০ জনের তালিকা করবে, তাঁদের সম্পর্কে জনগণ কিছুই জানতে পারবে না। জনগণকে জানানোর কোনো বিধান আইনে রাখা হয়নি।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি নিজেও একসময় এ ধরনের অনুসন্ধান কমিটিতে ছিলেন। সে সময়ের অভিজ্ঞতা কী ছিল?

মো. আবদুল মতিন : আমি একটি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও দুটিতে সদস্য ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা বলে, অনুসন্ধান কমিটির আসলে কিছুই করার থাকে না। অনুসন্ধান কমিটির তো নিজেদের লজিস্টিক কোনো সাপোর্ট নেই। নিজেদের কোনো এজেন্সি নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে ম্যাটেরিয়াল তাদের দেবে, তা নিয়ে তাদের কাজ করতে হবে। সীমাবদ্ধ অবস্থার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : অনুসন্ধান কমিটি তাদের প্রস্তাবিত নামের তালিকা আগেই প্রকাশ করবে, আইনে এটি থাকলে কী সুবিধা হতে পারত?

মো. আবদুল মতিন : ওয়াশিংটন পোস্ট একটি স্লোগান ব্যবহার করে। ডেমোক্রেসি ডাইস ইন ডার্কনেস। জনগণকে অন্ধকারে রেখে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা যায় না। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কারা নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, তা আগে থেকে সবাই জানতে পারলে তাঁদের সম্পর্কে সবাই মতামত জানাতে পারত। এতে বিতর্কিত কারো নিয়োগ পাওয়ার ঘটনা ঘটত না।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি আগেও বলেছেন, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের বিষয়টি সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের (৩) দফার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, এই দফাটি সংশোধন হওয়া দরকার।

মো. আবদুল মতিন : এতে বলা হয়েছে, কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে কাজ করবেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি যাতে নিজ বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন তার জন্য সংবিধানের ওই দফাটি সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার শব্দগুলোও যোগ করা প্রয়োজন। দুটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে, আরো একটি ব্যতিক্রম যোগ হলে অসুবিধা কোথায়?

 

কালের কণ্ঠ : এই আইনের মাধ্যমে আমরা কী ধরনের নির্বাচন কমিশন পেতে যাচ্ছি?

মো. আবদুল মতিন : এটি এখনই বলা সম্ভব না। বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার ওপর। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই আইন ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভালো কিছু লোক নির্বাচন কমিশনে আসতে পারেন।

 

কালের কণ্ঠ : কালের কণ্ঠকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মো. আবদুল মতিন : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

 



সাতদিনের সেরা