kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সাংবাদিকদের সিইসি

ইসির সমালোচনা বন্ধ করতে চাইলে মার্শাল ল লাগবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসির সমালোচনা বন্ধ করতে চাইলে মার্শাল ল লাগবে

নুরুল হুদা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সমালোচনা থাকবেই। এটা বন্ধ করা যাবে না। সমালোচনা বন্ধ করতে হলে মার্শাল ল দিতে হবে। সেটা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

সিইসি বলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মানুষের বাকস্বাধীনতা ছিল না। মানুষের মাথায় লাঠি ধরে, বন্দুকের নল উঁচিয়ে জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচন করা হয়েছে বলেই তখন এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন প্রশংসা পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচন করা কঠিন হলেও আগের সেই অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব না।

বিদায়ের ১৮ দিন আগে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘আরএফইডি টক’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন বিদায়ী সিইসি নুরুল হুদা। ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি—আরএফইডি সংগঠনটি ইসি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন। গতকাল সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সভায় ইসির অতিরিক্ত সচিব ও কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিইসি নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে কমিশনের পক্ষে নির্বাচনী সংলাপ আয়োজনে এক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে জানান। তিনি বলেন, বদিউল আলম মজুমদার আগের কমিশনের মতো বর্তমান কমিশনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে কমিশনের কর্মকর্তারা সতর্ক করায় তাঁর সঙ্গে কাজ করেননি তিনি। এ জন্যই বদিউল আলম মজুমদার বিভিন্ন অভিযোগ করে যাচ্ছেন।

বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে নুরুল হুদা বলেন, তদন্ত হয়নি। ওই ঘটনার সময় যাঁরা কমিশনে ছিলেন তাঁরা তদন্ত করেননি।

সাবেক সিইসি এ টি এম শামসুল হুদা সম্পর্কেও কে এম নুরুল হুদা বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তিনি এত দিন কিছু বলেননি। এখন ছবক দিলেন। তবে তাঁর কথাগুলো আমি সিইসি হিসেবে গ্রহণ করতে পারিনি। তিনি ‘আমিত্ববোধ’ থেকে সেসব কথা বলতে পারেন।

বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে দেশের বিশিষ্ট ৪২ নাগরিকের দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে নুরুল হুদা বলেন, ইভিএম কেনায় কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রশিক্ষণে ব্যয় নিয়ে যে অডিট আপত্তি, এটি সব প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়। এটি নিষ্পত্তিযোগ্য। নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো হয়নি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে বলে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে নুরুল হুদা বলেন, ‘অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আমি কনক্লুসিভ কিছু বলতে পারি না। কারণ, আমি তো রাতের ভোট দেখিনি। আপনিও দেখেননি, রাতে ভোট হয়েছে। তদন্ত হলে বেরিয়ে আসত, বেরিয়ে এলে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যেত। সারা দেশের নির্বাচনও বন্ধ হয়ে যেতে পারত। রাজনৈতিক দলগুলো কেন আদালতে অভিযোগ দেয়নি, সেটা তাদের বিষয়। এটি এখন প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এটি অভিযোগ। ’

শতভাগ বা কোথাও তারও বেশি হারে ভোট পড়ার অভিযোগ সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘ফলাফল প্রকাশ হয়ে গেলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা কমিশনে বসে আগে থেকে কিছু জানতে পারি না। ’

ফলাফলের গেজেট হওয়ার আগে এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফল আমাদের কাছে আসতে দেরি হয়। ফলাফল প্রকাশের আগে ইসি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের কাছে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে হবে। ’

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার নির্বাচনব্যবস্থা এখন আইসিইউতে বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর এমন মন্তব্য সম্পর্কে নুরুল হুদার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি অসুস্থ মানুষ। নিজেও আইসিইউতে ছিলেন। ভারতে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর চিকিৎসায় সরকারের ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আইসিইউ শব্দটি পরিচিত বলে ব্যবহার করেছেন। ’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিনা ভোটে বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের ব্যাপকতা প্রসঙ্গে নুরুল হুদা বলেন, এতে কমিশনের কিছু করার নেই। এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। বিনা ভোটে কেন নির্বাচিত হলো, তা দেখার এখতিয়ার কমিশনের নেই।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমে কিভাবে বাতিল ভোট দেখানো হলো—এমন প্রশ্নে বিদায়ী সিইসি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ’

দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রচার সম্পর্কে নুরুল হুদা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো চিঠি আমি পাইনি। ’

 



সাতদিনের সেরা