kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অর্থের হিসাব নেওয়া হবে

► নারায়ণগঞ্জে প্রমাণ হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুষ্ঠু ভোট হয়
► সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ দমনে সফল র‌্যাব এত খারাপ হয়ে গেল কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অর্থের হিসাব নেওয়া হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় থেকে বিএনপি দেশের অর্থ-সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। সেই অর্থ দিয়ে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে তারা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। তাদের লবিস্ট নিয়োগ করে বিপুল অর্থ খরচ করার হিসাব নেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা ও অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে তড়িঘড়ি করে আইন প্রণয়নের অভিযোগ নাকচ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর প্রস্তুতি আগেই নেওয়া ছিল। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি যখন আমাদের সবাইকে ডেকেছিলেন, তখনই আইন করার কথা বলেছিলেন। অনেক দিন থেকে মোটামুটি প্রস্তুতি ছিল। ’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ১৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংলাপে রাষ্ট্রপতি বিলটি তাড়াতাড়ি পাসের কথা বলেন। তিনি চান, এই বিলের মাধ্যমে পরবর্তী ইসি গঠন হোক। এরপর আমরা বিল সংসদে নিয়ে আসলাম। আমরা এই পার্লামেন্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিলটা পাস করেছি। অন্য কোনো দল করেনি। আওয়ামী লীগ করল। এতে জনগণের ভোট সুরক্ষিত হলো। গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হলো। ’

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিলে ২২টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি—সবার সংশোধনী আমরা গ্রহণ করেছি। এই বিল আর সরকারি বিল না, বিলটি সবার হয়ে গেল। বিলের ওপর সবাই বক্তব্য দিয়েছেন। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির কোনো দেশপ্রেম নেই, দেশের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। দেশের অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তারা নানা চক্রান্ত করছে। বিএনপি ধ্বংস, লুটপাট, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সৃষ্টি ছাড়া দেশকে আর কিছুই দিতে পারেনি। কিন্তু দেশের জনগণের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারে দেশের জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। ’

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের অগ্রগতি যাদের পছন্দ নয়, তারাই শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের সর্বনাশ করছে। এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে এলো, বিদেশে খরচ হলো—তার জবাব ও ব্যাখ্যা বিএনপিকে দিতে হবে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে লবিস্ট নিয়োগের খরচের হিসাব পাই পাই নেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচানো, নির্বাচনকে বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করা, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বিএনপি শত শত কোটি টাকা খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেছে কোনো ভালো কাজের জন্য নয়।

নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে দেশের জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা, কেড়ে নেওয়া নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তার বড় প্রমাণ। বিএনপি এই নির্বাচনেও নানা খেলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষাসহ সব কিছু আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল। আওয়ামী লীগের আমলেই দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত থাকে।

র‌্যাবের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, ‘যারা দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ দমনে সফল ও পারদর্শিতা দেখিয়েছে, অভিজ্ঞতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে—তারা এত খারাপ হয়ে গেল কেন? তিনি বলেন, হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে। নৃশংস দৃশ্য! তারা কেবল হত্যাই করেনি, কুপিয়ে কুপিয়ে মানুষ মেরেছে। পুলিশের দুজন অফিসারকে গুলি করে মেরেছে। এরপর আমরা পদক্ষেপ নিই। সে সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত টুইট করেছিলেন, হলি আর্টিজেনের সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশ একা সমাধান করতে পারবে না। রোজার দিন ছিল। সারা রাত আমরা কাজ করেছি। সাহরির সময় পর্যন্ত আমি বৈঠক করি। পরিকল্পনা করি। পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে জিম্মিদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে তাদের হামলা মোকাবেলা করি। এর পরই মার্কিন রাষ্ট্রদূত টুইটটি সরিয়ে ফেলেন। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাদের স্যাংশন দিল, তাদের বেশির ভাগ এই সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিল। তাহলে এরা কেন তাদের কাছে এত খারাপ হয়ে গেল? ওই অপারেশনে যারা ছিল, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুসংহত করেছে তাদের ওপরই যেন আমেরিকার রাগ। আমি আমেরিকাকে দোষ দিই না। ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেব?’

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ নেতা বলেন, আজকের এই দিনে সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যায় বিএনপি জড়িত ছিল, সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এর বিচারের কাজটি বারবার বাধা দিচ্ছে তাঁর পরিবার থেকে। কেন ঠিক জানি না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত অর্থনীতির মধ্যেও আমরা বিনা পয়সায় করোনার পরীক্ষা করাচ্ছি। বিনা পয়সায় টিকা দিচ্ছি। সবাই টিকা নেবেন। ’

 



সাতদিনের সেরা