kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

পার্টিগেট কেলেঙ্কারি

চাপের মুখেও পদে অনড় জনসন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাপের মুখেও পদে অনড় জনসন

বরিস জনসন

করোনাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জেরবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গতকাল বুধবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিরোধীদের ক্রোধ ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। কোনোভাবেই যে তিনি পদত্যাগ করবেন না, জানিয়ে দিয়েছেন সেটাও।

লকডাউনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জনসন নিজ দপ্তরে বেশ কয়েকটি পার্টি করেছেন, এমন অভিযোগে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা সু গ্রের নেতৃত্বে হওয়া তদন্তের প্রতিবেদন গতকাল জমা দেওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশিত হওয়ার কথা বলা হলেও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হয়লে পার্লামেন্টে জানান, সু গ্রের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় স্পষ্ট না করে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন-কাম-কার্যালয়ে কভিড লকডাউন বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করে পার্টি করার অভিযোগের অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

এদিকে এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হতেই শুরু হয়ে গেছে আরেক তদন্ত। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি ভবনে করোনাবিধি ভঙ্গের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্তের ঘোষণা দেয়। সু গ্রের তদন্ত প্রতিবেদন তাদের হাতে আসার পর পুলিশি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুইয়ে মিলে ভীষণ চাপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে উচ্চকণ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্যরা (এমপি) গতকাল তাঁকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন, ছিল কঠোর মন্তব্যও।

পার্লামেন্টে গতকাল প্রশ্নোত্তর পর্বে লেবার নেতা কেইর স্টারমার বলেন, লকডাউনের মধ্যে পার্টি করে প্রধানমন্ত্রী জনসন জনগণকে অপমান করেছেন।

জনসনের পক্ষ নিয়ে গতকাল তাঁর দলের এমপি শৈলেশ ভারা বলেন, পার্টিতে পানীয় ছিল মানে এই নয় যে সেখানে কোনো কাজ ছিল না।

সাফাই গেয়েছেন জনসন নিজেও। তাঁর দাবি, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় তিনি ও তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বাস্তবায়ন করেছে। আর এখনো তাদের সামনে বিরাট দায়িত্ব। সুতরাং তিনি কোনোভাবেই পদত্যাগ করবেন না।

লকডাউন চলার সময় যুক্তরাজ্যের জনগণ যখন কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে ছিল, তখন ডাউনিং স্ট্রিটে প্রায়ই পানাহারের উৎসব করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বরিস জনসন তাঁর প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্যে পড়েছেন।

বরিস জনসনকে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তবে তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, যাঁকে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আনুষ্ঠানিক পুলিশি তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে লেবার পার্টির নেতা প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের একটি অভিযোগে পুলিশি তদন্তে একজন সাক্ষী হিসেবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০০৭ সালে পুলিশ ঘোষণা করেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে না। সূত্র : এএফপি, বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা