kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

১৪ কোটি ৬২ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৪ কোটি ৬২ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নৈরাশ্যবাদীদের সব ভ্রান্ত ধারণাকে অমূলক প্রমাণ করে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথার পাশাপাশি  প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা শুরু হওয়ার পরপরই সরকার সংক্রমণ প্রতিরোধে বিনা মূল্যে টিকা প্রদানের বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনার টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার আগেই আমরা টিকা সংগ্রহ ও টিকা দেওয়ার বিষয়ে সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। তারই ফলস্বরূপ দেশব্যাপী ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিনা মূল্যে টিকা কার্যক্রম শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

’ তিনি জানান, এখন পর্যন্ত মোট ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৮১২ জনকে কভিড-১৯ টিকা দেওয়া হয়েছে।  

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো জানান, দেশব্যাপী ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের আওতায় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আট কোটি ৯১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং পাঁচ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৮৩৪ জনকে দ্বিতীয় ডোজসহ মোট ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৮১২ জনকে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাত লাখ ৪১ হাজার ২৬৫ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা জানান, সারা বিশ্বের মতো দেশেও কভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারও চলমান কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় বুস্টার ডোজ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ, বাংলাদেশের (এনআইটিএজি,বি) সুপারিশ অনুযায়ী এবং করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির অনুমোদনক্রমে দেশব্যাপী গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী ও বিদেশগামী কর্মীদের বুস্টার ডোজ প্রদান করা হচ্ছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে বর্তমানে দেশব্যাপী প্রায় ৭১৮টি স্থায়ী কেন্দ্রে, ছয় হাজার ৫৮টি অস্থায়ী/ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে এবং ১৩ হাজার ৯৬৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে (ক্যাম্পেইন চলাকালে) কভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আগামী মার্চের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।  

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সরকারি দলের সদস্য মমতাজ বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আরো জানান, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার পর সরকার বৈশ্বিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রেফারেনশিয়াল মার্কেট অ্যাক্সেস অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বিষয়ে কৌশলপত্র এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ ও তিনটি জোটের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে—ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, মালয়েশিয়া এবং আশিয়ান অর্থনৈতিক জোট, মার্কোসের জোট ও ইউরেশিয়া অর্থনৈতিক জোট।

এ ছাড়া তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা, মরক্কো, মরিশাস, সেনেগাল, নাইজেরিয়া, সিয়েরালিওন, কেনিয়া ও জিসিসিভুক্ত দেশের সঙ্গে পিটিএ/এফটিএ/সেপা নেগোসিয়েশন কার্যক্রম পরিচালনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 



সাতদিনের সেরা