kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ক্যারিবীয়দের দিনে হাওয়েলের ফরাসি সৌরভও

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ২০ ওভারে ১৯০/৭, খুলনা টাইগার্স : ২০ ওভারে ১৬৫/৯, ফল : চট্টগ্রাম ২৫ রানে জয়ী

মাসুদ পারভেজ   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্যারিবীয়দের দিনে হাওয়েলের ফরাসি সৌরভও

সাকিব আল হাসানকে অভিনন্দন মাহমুদ উল্লাহর। মাহমুদকে আউট করেই স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন সাকিব। বরিশাল ফরচুনের বিপক্ষে ম্যাচটি অবশ্য জিতেছে মাহমুদের মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকাই। ছবি : মীর ফরিদ

বিশ্বজুড়ে ফরাসি সুগন্ধির খ্যাতি আছে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের তৃতীয় দিন সেই সুগন্ধে মাতোয়ারা হওয়ার আগে-পরে ঘটনাবহুল দিনজুড়ে শুধুই ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের আধিপত্যের গল্প।

দিনের প্রথম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার চার উইকেটের জয়ে মাহমুদ উল্লাহ-শুভাগত হোমদের বিপর্যয় সামাল দেওয়া ৬৯ রানের জুটির কৃতিত্ব আছে অবশ্যই। তবে নিষ্পত্তির জন্য শেষ ওভারে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ম্যাচে ঢাকার আগাম জয়োৎসব বিস্ফোরক আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটেই।

বিজ্ঞাপন

লো স্কোরিং ম্যাচে আগে ব্যাট করা বরিশালেরও প্রাণভোমরা সেই ক্রিস গেইল-ডোয়াইন ব্রাভোরাই।

সন্ধ্যার ম্যাচেও রান তাড়ায় রেজাউর রহমান রাজার বলে চোয়ালের নিচে চোট পেয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগে ব্যাট হাতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে চোখ রাঙাচ্ছিলেন আরেক ক্যারিবীয় আন্দ্রে ফ্লেচারও। তাঁর জায়গায় বিপিএল ইতিহাসের প্রথম ‘কনকাশন সাব’ সিকান্দার রাজা কিংবা অন্যরা অবশ্য পারলেন না দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের প্রথম হার রুখতে। বরং বেনি হাওয়েল নামের ফরাসি সৌরভের আগে ব্যাটিং করা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স এমন জায়গায় গেল যে অনেক আগেই থামতে হলো খুলনাকে। যথারীতি ২০ বলে ৩৪ রানের হার না মানা ঝোড়ো ইনিংসে চট্টগ্রামের সংগ্রহকে একরকম প্রতিপক্ষের সাধ্যের বাইরেই নিয়ে গেলেন। চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ ১৯০ রান তোলা মেহেদী হাসান মিরাজের দলও তৃতীয় ম্যাচে সুরভিত হলো দ্বিতীয় জয়ে। জেতার ব্যবধানও টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় বড়ই, ২৫ রানের।

ভুল শুনছেন না, ফরাসি সৌরভই। জাতে ইংলিশ হলেও হাওয়েলের শিকড় ফ্রান্সেই। সেখানকার বোর্দোতে জন্ম নেওয়া এই অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি না খেললেও কুড়ি-বিশের ক্রিকেটের বাজারে বেশ চাহিদাসম্পন্নও। সেটি তাঁর মারদাঙ্গা ব্যাটিং সামর্থ্যের জন্যই। চাহিদা অনুযায়ী বিস্ফোরক ইনিংসের সরবরাহও নিয়মিত। এবারের বিপিএলে তো বটেই। ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে হারলেও দলের ১০০ পার করা নিয়েই যখন সংশয়, তখন ২০ বলে তিনটি করে ছক্কা আর চারে খেলেন ৪১ রানের ইনিংস। ঢাকার বিপক্ষে পরের ম্যাচেও দলকে জেতার মতো ১৬১ রানের পুঁজি এনে দেন ১৯ বলে তিন ছক্কা আর এক চারে ৩৭ রানের আরেকটি বিধ্বংসী ইনিংসে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আরেকবার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ‘তিনে তিন’ হাওয়েল হয়ে উঠলেন পারফরম্যান্সের নিশ্চিত নির্ভরতাও।

হাওয়েলের আগে চট্টগ্রামের হয়ে ঝড় তুলেছিলেন ক্যারিবীয় ওপেনার কেনার লুইসও (১৪ বলে দুটি করে ছক্কা আর চারে ২৫)। সেই ঝড় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি অবশ্য। অন্য ওপেনার উইল জ্যাকসও (দুই ছক্কা আর এক চারে সাত বলে ১৭) দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর মাঝখানে সাব্বির রহমান (৩৩ বলে ৩২) ও মিরাজের (২৩ বলে ৩০) ঢিমে তালের পথেই রাখে চট্টগ্রামকে। সেখান থেকে হুট করেই সংগ্রহটা ১৯০-এর ঘরে নিয়ে যাওয়া হাওয়েল এরপর তুলে নিয়েছেন খুলনার সবচেয়ে মূল্যবান উইকেটটিও। তাঁর বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় মুশফিকুর রহিমের (১৫ বলে ১১) ইনিংসও।

ব্যাট হাতে ফরাসি সৌরভ ছড়ানোর পর হাওয়েলের ম্যাচসেরা হওয়া নিয়েও তাই কোনো প্রশ্নের অবকাশ ছিল না!  

সংক্ষিপ্ত স্কোর ; চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ২০ ওভারে ১৯০/৭ (হাওয়েল ৩৪*, সাব্বির ৩২, মিরাজ ৩০, লুইস ২৫, আফিফ ১৫, নাঈম ১৫; কামরুল ২/৩৫, ফরহাদ ১/৩৫, নাভিন ১/৪৮)।

খুলনা টাইগার্স : ২০ ওভারে ১৬৫/৯ (ইয়াসির ৪০, মেহেদী ৩০, সিকান্দার ২২, ফ্লেচার ১৬, কামরুল ১৪*; রেজাউর ২/২০, শরীফুল ২/২৯, মিরাজ ২/৪২, নাসুম ১/৩০, হাওয়েল ১/৩৭)।

ফল : চট্টগ্রাম ২৫ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : বেনি হাওয়েল (চট্টগ্রাম)।           

 



সাতদিনের সেরা