kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

একে একে জেব্রা পরিবারের ৯ সদস্যের মৃত্যু

মৃত্যুর কারণ জানতে মৃতদেহের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে আজ বিশেষজ্ঞদলের বৈঠকে বসার কথা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একে একে জেব্রা পরিবারের ৯ সদস্যের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের জেব্রা পরিবারে কিছু দিন পরপরই নতুন অতিথি যোগ হচ্ছিল। জেব্রার পরিবারে সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় ৩১-এ। জাতীয় চিড়িয়াখানায় কিছু জেব্রা পাঠানোর কথাও ভাবছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত ২৩ দিনে একের পর এক জেব্রার মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সর্বমোট ৯টি জেব্রার মৃত্যুর কারণ জানতে মৃতদেহের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞদলের বৈঠকে বসার কথা।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় কালের কণ্ঠকে জানান, ২ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত জেব্রাগুলো মারা যায়। খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তবিবুর রহমান বলেন, ২ জানুয়ারি থেকে পার্কের আফ্রিকান কোর সাফারির জেব্রা বেষ্টনীতে যেন মড়ক শুরু হয়। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৯টি জেব্রার মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে জেব্রার মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। গত রাতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পরীক্ষার রিপোর্টও পেয়েছেন তাঁরা। এ নিয়ে আজ সকালে সাফারি পার্কে বিশেষজ্ঞদল বৈঠকে বসবে।

সাফারি পার্ক সূত্র জানায়, পার্কে জেব্রার পাল দিন দিন বড় হচ্ছিল। কিছুদিন পরপরই পালে যুক্ত হচ্ছিল নতুন অতিথি। সর্বশেষ পালটিতে ৩১টি জেব্রা ছিল। ৯টি জেব্রার মৃত্যুর পর এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২২-এ। সূত্রটি জানায়, জেব্রার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সাফারি পার্ক থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় কিছু জেব্রা পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।

পার্কের কর্মকর্তারা জানান, আফ্রিকান কোর সাফারির ভেতর বিস্তীর্ণ এলাকায় জেব্রার বসবাস। সেখানে প্রাকৃতিক বন ছাড়াও রয়েছে একটি লেক। সরবরাহ করা খাবার (ঘাস) ছাড়াও সেখান থেকে ঘাস খায় জেব্রাগুলো।

সাফারির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দুই দিন থেকে সরবরাহ করা ঘাস যেসব এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়, সেই এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখান থেকে ঘাস সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পার্কটির প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির জানান, মৃত প্রতিটি জেব্রার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে মরদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাফারি পার্কের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। বাইরে থেকে এসে কারো বিষ প্রয়োগের সুযোগও নেই সেখানে। সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। তবে পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে সব কিছু।



সাতদিনের সেরা