kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার আহ্বান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনাদের পূর্বসূরিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সব আঘাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২২’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন জাতির পিতার দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, যা আমাদের এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আপনাদের পূর্বসূরিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সব আঘাত থেকে রক্ষা করতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্য পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। সর্বোপরি পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশকে শান্তির সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে নব উদ্যমে কাজ করতে প্রেরণা জোগাবে, এটাই আমার প্রত্যাশা। ’

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে পূর্বসূরিদের ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজারবাগে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠানের ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘এই রাজারবাগে যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের কথা মনে রাখতে হবে। তাঁরা আপনাদেরই ভাই, তাঁদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। ’

বিএনপির ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা অগ্নিসন্ত্রাস, বৃক্ষ কর্তন, রাস্তা কেটে ফেলা—নানান ধরনের কাজ করেছে, এমনকি পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। যেভাবে পুলিশ সদস্যদের তারা নির্মমভাবে মেরেছে সেটা সত্যিই ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে তারা দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল। কত মানুষকে তারা হত্যা করেছে তার কোনো সীমা নেই।

তিনি সে সময় সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকবেলায় পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সেই সময় পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে এসেছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা কাজ করেছে। এ জন্য সবাইকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

’৭৫ সালের বিয়োগান্তক ঘটনা স্মরণ করে সেই সময় পুলিশের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন বাহিনীতে উন্নীত হয়েছে।

পুলিশ বাহিনী দ্রুত সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। যে কারণে আজকে মানুষের মধ্যে একটা আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দার পর এসেছে করোনা, এত প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে, ব্যাপকভাবে যোগোযোগ ব্যবস্থা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আধুনিক করে দিচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনে বিশেষ সুবিধার সৃষ্টি করে দিচ্ছে সরকার, বলেন তিনি।

তাঁর সরকার এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চায় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিবেশন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একটি খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃতী পুলিশ সদস্যদের মাঝে পুলিশ পদকও বিতরণ করেন তিনি।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ২০২০ সালে ১১৫ এবং ২০২১ সালে ১১৫ জনসহ মোট ২৩০ পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে মরণোত্তর পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে র‌্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনও রয়েছেন।

পদকের মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)।

পদক প্রাপ্তদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্যরাও ভালো কাজ করে যাবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। সূত্র : বাসস



সাতদিনের সেরা