kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

যাত্রী কল্যাণ সমিতি

পথে পথে প্রাণহানি সড়কে ৭৮০৯, রেলে ৩৯৬, নৌপথে ৩১১

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পথে পথে প্রাণহানি সড়কে ৭৮০৯, রেলে ৩৯৬, নৌপথে ৩১১

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২০২১ সালে ৮৫ দিন গণপরিবহন বন্ধ ছিল। এর পরও ওই বছর দেশে পাঁচ হাজার ৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৮০৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ৯ হাজার ৩৯ জন।

একই সময়ে রেলপথে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৩৯৬ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নৌপথে ১৮২টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন নিহত এবং ৫৭৮ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া নৌপথে দুর্ঘটনায় ৫৪৪ জন নিখোঁজ হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে ছয় হাজার ২১৩টি দুর্ঘটনায় আট হাজার ৫১৬ জন নিহত এবং ৯ হাজার ৭৫১ জন আহত হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২০ সালে চার হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৬৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। আগের বছরের তুলনায় গত বছর সড়কে এক হাজার ১২৩ জন বেশি প্রাণ হারিয়েছে। শতাংশের হারে আগের বছরের তুলনায় গত বছর মৃত্যু বেড়েছে ১৬.৮০ শতাংশ।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ১৯টি জাতীয় পত্রিকা, ১২টি আঞ্চলিক পত্রিকা, ১২টি অনলাইন পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার খবরের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন দুই হাজার ৩৫০ জন চালক, এক হাজার ৭১৫ জন পথচারী, এক হাজার ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৩০ জন শিক্ষার্থী, ১১১ জন শিক্ষক, ২৩৭ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া রয়েছেন এক হাজার ৭৬ জন নারী, ৬৩৮ শিশু, ৪২ জন সাংবাদিক, ১৬১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে জানুয়ারিতে, ৫৭১ জন। আর সবচেয়ে কম মারা গেছে আগস্টে, ৪৩২ জন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কারণ ট্রাক ৩০.৪২ শতাংশ। এরপর পিকআপ, লরি ও কাভার্ড ভ্যান ২৫.৫৯ শতাংশ, মোটরসাইকেল ১০.৭৬ শতাংশ, বাস ৯.৬৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

গত বছর সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩১.৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩৯.২৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২০.৩৪ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৩১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২.৬৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ০.৮৭ শতাংশ লেভেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আরো দেখা যায়, গত সাত বছরে ৩৭ হাজার ৪২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১ হাজার ৬৬৫ জন নিহত এবং আহত হয়েছে এক লাখ ৩৯৭ জন।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের ত্রুটি, ফিটনেসহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, লেভেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসাসহ ১৬টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা, সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, সড়ক মন্ত্রণালয়ে আলাদা সড়ক নিরাপত্তা ইউনিট গঠন, গণপরিবহনের চালকদের পেশাদার ট্রেনিং, নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সড়ক পরিবহন সেক্টরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ ১২টি সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বাংলাদেশের জন্য করোনা মহামারির চেয়েও বড় সমস্যা। করোনায় প্রাণহানির চেয়ে সড়কে বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও সড়ক নিরাপত্তায় সরকারের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। সড়কের বেহাল, বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি, লক্কড়ঝক্কড় ফিটনেসহীন যানবাহন অবাধে চলাচলের কারণে সরকারের বড় বড় অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে এসব সড়ক দুর্ঘটনা।



সাতদিনের সেরা