kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

ময়লার গাড়িচাপায় মৃত্যু

আরেক মৃত্যুর পর কবিরের বাসায় ডিএনসিসি কর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরেক মৃত্যুর পর কবিরের বাসায় ডিএনসিসি কর্তারা

আহসান কবির

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়িচাপায় গণমাধ্যমকর্মী আহসান কবির খান (৪৮) নিহত হওয়ার দুই মাস পর তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে আঞ্চলিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী ও স্থানীয় কাউন্সিলর তৈমুর রেজা খোকন মগবাজারে সোনালীবাগে কবিরের বাসায় যান। তাঁরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কবিরের দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ ও পরিবারকে প্রয়োজনমতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

স্বজনরা বলছে, কবির মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবার সংকটে পড়ে।

তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা ডিএনসিসি মেয়রের পক্ষ থেকে এত দিন কোনো সহায়তা পায়নি। সম্প্রতি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়। এবার তারা সহায়তা পাবে বলে আশা করছে।

গত ২৫ নভেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের উল্টোদিকে ডিএনসিসির ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী কবির খান। এ ঘটনায় কবিরের স্ত্রী নাদিরা পারভিন রেখা কলাবাগান থানায় মামলা করেন। র‌্যাব গাড়িচালক হানিফকে গ্রেপ্তার করে।

কবির একটি জাতীয় দৈনিকের কম্পিউটার বিভাগে চাকরি করতেন। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। ঝালকাঠির গ্রামের বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ঢাকার সংসারের খরচ একাই বহন করতেন তিনি। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির হঠাৎ মৃত্যুতে  দিশেহারা হয়ে পড়েন স্ত্রী রেখা। ছেলে সাদমান শাহরিয়ার কাইফ (১৫) দশম শ্রেণিতে পড়ছে রাজধানীর ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউটে। মেয়ে সাফরিন কবির দিয়া (১০) পড়ছে একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে।

ঘটনার পর ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম ফোনে কবিরের স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘আপনি আমার ছোট বোন, আপনার পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিলাম। পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ’

২৫ নভেম্বর রাতেই ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাসার মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আহসান কবির খানের দুই সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। এরই মধ্যে ডিএনসিসি মেয়রের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, নিহতের বাড়ি ঝালকাঠিতে মরদেহ পরিবহন ও যাতায়াতের জন্য একটি ফ্রিজার ভ্যান এবং একটি মাইক্রোবাস দেওয়া হয়েছে।

তবে গত শনিবার পর্যন্ত সহায়তা তো দূরের কথা, ডিএনসিসির পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগই করেনি। কবিরের চাচাতো ভাই জহির ইলিয়াছ খান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই সময় অ্যাম্বুল্যান্স সহায়তা আমরা পাইনি। মেয়রের আশ্বাসের কারণে সবাই ভেবেছেন সহায়তা মিলেছে। এ কারণে আত্মীয়-স্বজন পরিবারটির খোঁজ রাখেনি। তবে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর শনিবার থেকে ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। আজ (গতকাল) ডিএনসিসি অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক কর্মকর্তা এসেছেন। কাউন্সিলরও এসেছেন। তাঁরা খোঁজখবর নিয়ে গেছেন। ’

স্বজনরা জানায়, কবিরের মা-বাবা সত্তরোর্ধ্ব, অসুস্থ। দুই সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্ত্রী। এসব বিষয় জানানো হলে আঞ্চলিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, পরিবারের চাহিদা কী বা কী অবস্থা, তা দেখা হচ্ছে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘কবিরের পুরো পরিবারের দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। দুই সন্তানের লেখাপড়ার যত খরচ তা দেবে সিটি করপোরেশন। আর পরিবারের চাহিদামতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আমাদের প্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ’

 



সাতদিনের সেরা