kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

দেশে শনাক্তের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে শনাক্তের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে

করোনার টিকা নিতে দীর্ঘ লাইন। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে করোনা শনাক্তের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৩১.২৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে করোনা শনাক্তের হার ছিল ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। গত আগস্ট মাসে গড়ে শনাক্তের হার ছিল ২০.১৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করলে জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হয়ে আসে। গত ৮ সেপ্টেম্বর শনাক্তের হার ছিল ১০-এর নিচে। অক্টোবর মাসে শনাক্ত কমে গড়ে ১.৭৭ শতাংশে পৌঁছায়। নভেম্বরের শুরু থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শনাক্তের হার ছিল ১-এর ঘরে। ২২ ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারির প্রথম সাত দিনে শনাক্তের হার বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছায়।

এভাবে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে ঢাকায় করোনাভাইরাস আক্রান্তদের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ এ ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনে সংক্রমিত। ঢাকার বাইরেও ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ছে। ওমিক্রন ভীষণ ছোঁয়াচে। এটি দ্রুত ছড়ায়। এ কারণেই নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বেড়ে গেছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে একটু একটু করে ডেল্টার জায়গা দখল করে নিচ্ছে ওমিক্রন। ওমিক্রনের উপসর্গগুলো এখন রোগীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি আমাদের কমিউনিটি পর্যায়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ হচ্ছে। ’

তিনি  বলেন, ওমিক্রনের যে উপসর্গগুলো আছে, সেগুলো যদি খেয়াল করি, তাহলে দেখব ৭৩ শতাংশ মানুষের নাক দিয়ে পানি ঝরছে। মাথা ব্যথা করছে ৬৮ শতাংশ মানুষের। অবসন্নতা বা ক্লান্তি অনুভব করছে ৬৪ শতাংশ মানুষ। হাঁচি দিচ্ছে ৬০ শতাংশ, গলা ব্যথা ৬০ শতাংশের এবং কাশি দিচ্ছে ৪৪ শতাংশ মানুষ। এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। এর সঙ্গে মৌসুমি যে ইনফ্লুয়েঞ্জা, তার মিল রয়েছে। কাজেই যেকোনো পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগী ভর্তি গত তিন-চার মাসের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ঢাকা শহরে সাধারণ কভিড ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা চার হাজার ৭৩৬। এর মধ্যে খালি আছে তিন হাজার ৪৫৫টি শয্যা। ১১৯টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু আছে।

টিকা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথম ডোজের মোট ৯ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩টি টিকা দেওয়া হয়েছে। পাঁচ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। এক কোটি ২৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ শনাক্ত ও মৃত্যু : গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত ১০ হাজার ৯০৬ জন শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১.২৯ শতাংশ। এ সময় মারা গেছে ১৪ জন। এর মধ্যে নারী আটজন ও পুরুষ ছয়জন।

 

 



সাতদিনের সেরা