kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

সংসদে ইসি গঠনের বিল

►বিএনপির বিরোধিতা
► পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিল
► এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সংসদে ইসি গঠনের বিল

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের প্রস্তাবিত আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলে অনসুন্ধান কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে গঠিত সব নির্বাচন কমিশনকে বৈধতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল রবিবার চলতি সংসদের ১৬তম অধিবেশনে (শীতকালীন) আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ বিলটিকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ও ‘যাহা লাউ তাহাই কদু’ বলে মন্তব্য করেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই বিলটি আনা হয়েছে। মো. হারুনুর রশিদের বিরোধিতা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায় এবং মন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন।

বিএনপি এমপির বক্তব্য : বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি জনগণ, রাজনৈতিক দল ও সুধীসমাজের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। যে বিলটি উত্থাপন করা হচ্ছে, তার সম্পর্কে এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুধীসমাজ গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে গঠিত বিগত রকিব ও হুদা কমিশন ইসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অথচ নতুন আইনে এর আগে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে গঠিত দুটি কমিশনকে বৈধতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে যে কমিশন গঠিত হয়েছে, তার অনুরূপ বিল এখানে তোলা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনটি প্রশ্নবিদ্ধ। এই আইন দিয়ে বর্তমান সংকটের নিরসন হবে না। আমি দাবি করব, আইনটি প্রত্যাহার করুন। ’

প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে বিএনপি বা সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কোনো সংসদ সদস্য বক্তব্য দেননি।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য : বিএনপির সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিএনপি নিজেরা নির্বাচনে জিততে নানা কারসাজি করেছিল। বিচারপতি আজিজ সাহেবকে দিয়ে কমিশন গঠন, এক কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার, একজন ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে বিচারকদের বয়স ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ করেছিল। এটা উনারা কার সঙ্গে আলোচনা করে করেছিল? কারচুপি করে ক্ষমতায় আসতে উনারা নিরবচ্ছিন্ন ইলেকশন করতে চেয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করতে হবে। আমরা সেই আইন করেছি। উনারা বুঝে বলুক, না বুঝে বলুক, বলছেন এটি সার্চ কমিটির আইন। উনারা বলছেন, আইনটা আমরা ঠিক করিনি। তিনি বলেন, ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’ আমার কাছে একটি খসড়া দিয়েছিল। আমি তখন বলেছিলাম, করোনার জন্য এই সংসদে এটি পাস করা সম্ভব হবে না। উনারা বলেছিলেন অধ্যাদেশ করে আইন করে দিতে হবে।

সার্চ কমিটি গঠনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, তখন একটা ঐকমত্য হয়েছিল, গেজেট হলো। ইসি গঠন হলো। পরেরবার আবার একইভাবে হলো। এটি আইন ছিল না, কিন্তু এটি ছিল ফোর্স অব ল। কারণ, এটি রাষ্ট্রপ্রধান করেছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি যে দুবার অনুসন্ধান কমিটি করেছেন, সেটিও আইনসিদ্ধ ছিল। সেটিও আইনের আওতায় আনা হলো। এটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। উনাদের কথা হচ্ছে, যা করেন করেন, তালগাছ আমার। তালগাছ উনাদের না। তালগাছ জনগণের।

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, উনারা চান উনাদের পকেটে যে নাম, সেই নাম দিয়ে ইসি গঠন হবে। সেটি হবে না। এটি জনগণ ঠিক করবে। কোনো দল অগ্রাধিকার পাবে না। এই আইনে ইসি গঠন হলে বিএনপি ‘ভোট চুরি’ করতে পারবে না বলে তাদের ‘গাত্রদাহ’ শুরু হয়েছে।

খসড়া আইন থেকে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের অংশ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, চারজন হবেন সাংবিধানিক পদের অধিকারী। রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলেও চাকরিচ্যুত করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি পছন্দ না করলেও সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত ১০ জনের মধ্যে তাঁকে থাকতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে যা বলা হয়েছে : প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতিপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। ’

যোগ্যতা-অযোগ্যতা : প্রস্তাবিত আইনে সিইসি ও ইসি পদে কোনো ব্যক্তিকে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে তিনটি যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে—‘তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, ন্যূনতম ৫০ বছর বয়স হতে হবে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা-সরকারি বা বেসরকারি পদে তাঁর অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ’

বিলে সিইসি ও ইসি পদের জন্য ছয়টি অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো—‘যদি আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষিত হন; দেউলিয়া হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি না পেয়ে থাকেন; কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেন বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন; ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট-১৯৭৩ বা বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার-১৯৭২-এর অধীনে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন; আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে না, এমন পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন এমন ব্যক্তি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ’

অনুসন্ধান কমিটি : বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সিইসি ও ইসি নিয়োগে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশের জন্য ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে। এই কমিটির সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসেবে থাকবেন—প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। তিন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা