kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

আজ সংসদে উঠছে

ইসি নিয়োগ আইন চলতি সপ্তাহেই পাস হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসি নিয়োগ আইন চলতি সপ্তাহেই পাস হচ্ছে

আজ রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উঠছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়োগ বিল। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ নামের এই বিল সংসদে উত্থাপন করবেন। বিলটি সংসদে তোলার জন্য আজকের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত সোমবার প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছিল। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর বেশির ভাগই এবার আইন প্রণয়ন করে সে আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানায়। অন্যদিকে এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সময়সংকটের কারণে এবার আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে না। কিন্তু সে অবস্থান পরিবর্তন করে অনেকটা আকস্মিকভাবে সরকার আইন করার পথেই পা রাখে।

এই উদ্যোগ নিয়ে নানা সমালোচনার জবাবে গতকাল শনিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সময়ের সংকটের কথা জানালে সুধীসমাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে দ্রুত এটি করার দাবি জানানো হয়েছিল। এখন দ্রুত আইন করার উদ্যোগ নেওয়ায় কেন এর বিরোধিতা করা হচ্ছে?’

প্রস্তাবিত আইনে নারী নির্বাচন কমিশনার রাখার বিধান কেন রাখা হয়নি—এ প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এতে নির্বাচন কমিশনার নারীদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না, এ কথাও বলা নেই। এই আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি গঠিত অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য একাধিক নারীর নাম প্রস্তাব করতে পারেন। এটা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ’ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলতি সপ্তাহেই এই আইন সংসদে পাস হবে।

এদিকে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা গতকাল নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘প্রস্তাবিত খসড়া আইনে মনে হচ্ছে, অনেক অপূর্ণতা রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এটি শুধু সার্চ কমিটি গঠনের জন্য। সত্যিকার অর্থে বর্তমান সংসদে জনপ্রতিনিধিত্ব নেই, এর পরও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা উচিত। সর্বোপরি আইনটি যাতে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটি ভালো আইনের জন্য প্রয়োজনে সময় নেওয়া যেতে পারে। তাড়াহুড়া করে ত্রুটিপূর্ণ আইন প্রণয়ন কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না। ’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকার যে আইন করেছে, তা জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক। ’ বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের একক উদ্যোগে এ ধরনের আইন প্রণয়নের বিপক্ষে।

নাগরিক সংগঠন সুজন আজ রবিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়—সুশাসনের জন্য ‘সুজন’ দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুসারে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে একটি আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন বা ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ প্রণয়নে সরকারের আকস্মিক পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও প্রস্তাবিত আইনে নাগরিক সমাজ ও অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না করায় হতাশা প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার বিবৃতি দেয়।

আজ বসছে সংসদ অধিবেশন

টানা পাঁচ দিন বিরতির পর আজ রবিবার আবারও বসছে চলতি সংসদের ১৬তম অধিবেশন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় সীমিতসংখ্যক সদস্যদের উপস্থিতিতে অধিবেশনের বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকে বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনসংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনসহ কয়েকটি বিল উত্থাপন করা হবে।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধিবেশনের তৃতীয় দিন রবিবারের কার্যতালিকায় ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি উত্থাপন করবেন। এরপর অধিকতর পরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এটি পাঠানো হবে।



সাতদিনের সেরা