kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

১৭ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ৯৬১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১৭ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ৯৬১৪

করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি গত ১৪ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

দেশে এ নিয়ে কভিডে এযাবৎ মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ২০৯ জনে। এর মধ্যে চলতি জানুয়ারির ২২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। গতকাল শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি মাসের প্রথম দিন দেশে কভিড শনাক্তের বিপরীতে মৃত্যুর হার ছিল ১.১০ শতাংশ। এরপর টানা ২০ দিন এ হার ১ শতাংশের নিচে থাকলেও গতকাল ১.৬৮ শতাংশে উঠেছে।

গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯ হাজার ৬১৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় মোট নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্ত দুটিই কম। তবে শনাক্তের হার ২৮ শতাংশের বেশি। এ নিয়ে দেশে কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ জন। এদের মধ্যে এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯ জন। চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে দেশে ৮৮ হাজার ৬৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে কভিড সংক্রমিতের সংখ্যা ৯০ হাজার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে গত দুই বছরে কভিড সংক্রমণের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংক্রমণের হার অনেক বাড়লেও নভেম্বর থেকে তা কমে এসেছিল। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে শুরু করেছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য কভিডের ডেল্টা ও ওমিক্রন ধরনকে দায়ী করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম গত সপ্তাহে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়া অশুভ ইঙ্গিত। আমরা যদি নিজেদের সংবরণ না করি, এটাকে প্রতিহত করার চেষ্টা শক্তিশালী না করি, তবে পরে বিপদের বড় আশঙ্কা আছে। ’

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মোস্তাক হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যারা সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে আসছে তাদের সঙ্গে আসা লোকজনের অবস্থানের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে তাঁবু খাটিয়ে প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টার করতে হবে। কারণ হাসপাতাল থেকেই করোনা সংক্রমণ বেশি ছড়াতে পারে। আর চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সংক্রমিত হন তাহলে সংকট আরো বাড়বে।

মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপট চলছে। দেশের অন্য এলাকায়ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রত ওমিক্রন শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এ কারণে আক্রান্তদের কত শতাংশ ওমিক্রনে আক্রান্ত জানা যাচ্ছে না। কিন্তু সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতেই ওমিক্রনের দাপটের বিষয়টি আমরা ধরে নিতে পারি। এ অবস্থায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালনের ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্জিক্যাল মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। ’

কভিড সংক্রমণ মোকাবেলায় গত ১০ জানুয়ারি সরকার ১১ দফা বিধি-নিষেধ জারি করেছিল। ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করারও ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস ও ট্রেন চালানোর পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে কভিড টিকার সনদ থাকা বাধ্যতামূলক এবং টিকা সনদ ছাড়া ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগই মানা হয়নি।

এরপর গত শুক্রবার সরকার কভিড বিস্তার রোধে দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করে। সে অনুযায়ী, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেবে, তাদের অবশ্যই টিকা সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কারখানাগুলোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিকা সনদ নিতে হবে।

বাজার, শপিং মল, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সব ধরনের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতেও বলেছে সরকার। সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি ও বেসরকারি অফিস অর্ধেক জনবল দিয়ে চালানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দেশে হাসপাতালগুলোর কভিড শয্যার এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে এখনো কভিড পরীক্ষার হার বেশ কম। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে লোকজনের উপসর্গ থাকলেও নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ কম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৪ হাজার ৩১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ১০৩ জন ঢাকা জেলার। এটি মোট পরীক্ষার ৭০.২৪ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২৫ হাজার ৫৪৮ জন। এটি সারা দেশে মোট নমুনা পরীক্ষার ৭৪.৪৬ শতাংশ। বাকি সাত বিভাগ মিলে পরীক্ষা হয়েছে আট হাজার ৭৬৩টি, যা মোট পরীক্ষার ২৫.৫৪ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়, সাত হাজার ৫৬ জন। এটি সারা দেশের শনাক্তের ৭৩.৩৯ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ৩৯৬ জন। এটি সারা দেশে শনাক্তের ৭৬.৯২ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা