kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

জাতিসংঘকে ১২ সংস্থার চিঠি

শান্তি রক্ষা মিশনে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান

র‌্যাবের প্রতি অবিচার হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শান্তি রক্ষা মিশনে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ সব দেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের অতীত কর্মকাণ্ডের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের দাবি তুলেছে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। একই সঙ্গে সংস্থাগুলো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র‌্যাব সদস্যদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।  

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘র‌্যাবের প্রতি অবিচার হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

’ বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত এই বাহিনীটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন।   

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডাব্লিউ) ১২টি সংস্থা গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। তাতে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার তথ্য প্রকাশ করে তারা। তবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়াকে এসংক্রান্ত চিঠি তারা দিয়েছে গত নভেম্বর মাসে। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ওই সংস্থা থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।  

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ সেনা ও পুলিশ সদস্য জোগানদাতা বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিভিন্ন মিশনে ছয় হাজার ৭৩১ জন বাংলাদেশি যুক্ত ছিল। কোনো একক দেশ হিসেবে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও পররাষ্ট্র দপ্তর গত ১০ ডিসেম্বর র‌্যাব এবং এর সাত সাবেক-বর্তমান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার প্রায় এক মাস আগে গত ৮ নভেম্বর এই ১২টি সংস্থা জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়াকে চিঠি পাঠিয়েছিল।

এইচআরডাব্লিউর গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো র‌্যাবের ‘নিপীড়নের’ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও র‌্যাব সদস্যদের মানবাধিকার লঙ্ঘনে সম্পৃক্ততায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। দুই মাস আগে চিঠি পাঠালেও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

এইচআরডাব্লিউর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করলেও বাংলাদেশ সরকার অভিযোগগুলো নাকচ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব নিয়ে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ আছে।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই র‌্যাব সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এইচআরডাব্লিউর সঙ্গে একই দাবি তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স (আফাদ), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম এশিয়া), এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (অ্যানফ্রেল), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট, সিভিকাস : ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস, দ্য অ্যাডভোকেটস ফর হিউম্যান রাইটস ও ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি)।

১২ সংস্থার আহ্বান প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান খন্দকার আল মঈন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গণমাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। ’

র‌্যাবের প্রতি অবিচার হচ্ছে

চিঠি পাঠানো ১২ সংস্থার অন্যতম রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের সভাপতি কেরি কেনেডি বলেছেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে আন্তরিক হন তাহলে তিনি র‌্যাবের মতো বাহিনীগুলোকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া নিশ্চিত করবেন। প্রমাণ স্পষ্ট। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই সময়।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, র‌্যাবের প্রতি অবিচার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলে আসছি, যদি পেছনের দিকে তাকান দেখবেন র‌্যাব কখন তৈরি হয়েছিল? যারা র‌্যাব তৈরি করেছিল, এখন তারাই র‌্যাবকে অপছন্দ করছে, নানা অপপ্রচার করছে। র‌্যাবের ভালো কাজ তারা তুলে ধরছে না। ’

 



সাতদিনের সেরা