kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

অনশন, শীতে কাতর ১৮ শিক্ষার্থী


► সাত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি
► সংহতি জানিয়ে সমাবেশ প্রগতিশীল ছাত্রজোটের
► আন্দোলন থেকে সরে যেতে ফোনে হুমকি

সিলেট অফিস ও শাবিপ্রবি প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অনশন, শীতে কাতর ১৮ শিক্ষার্থী

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল অসুস্থ বোধ করায় এক ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন চিকিৎসক। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে অংশগ্রহণ করা ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ১৮ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ পাসপাতাল, একজন মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতাল এবং পাঁচজনকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের অনশনস্থলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুর থেকে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তিনি অনশন ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

অনশন এবং তীব্র শীতের কারণে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহপাঠীরা একে একে অসুস্থ হতে থাকলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় সহপাঠীর সেবা-শুশ্রূষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা।

অনশনের দ্বিতীয় দিন গতকাল দুপুর ১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাজল দাস। তাঁকে রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাজল বলছিলেন, ‘এই অযোগ্য ভিসি যদি পদত্যাগ না করেন, মরার আগ পর্যন্ত আমি অনশন ভাঙব না। কোনোভাবেই না। ’

গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে। কোনোভাবেই সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের আন্দোলন অহিংস। এ আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কিছু কুচক্রী গুজব ছড়াচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ’

বাশার আরো বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তদন্ত নয়, উপাচার্যের পদত্যাগ চান শিক্ষার্থীরা : রাষ্ট্র কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কারো মাধ্যমে তদন্ত চান না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁরা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ চান। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান কিংবা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার দায়ভার উপাচার্যকেই নিতে হবে। দ্রুত তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। ’

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল আন্দোলনরত ক্ষাির্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে আন্দোলনস্থলে যায়। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বললে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানান।

রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের চেষ্টা : বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছন দিকে খেলার মাঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বাইরে যাতায়াত করছেন। খাবার কিংবা অ্যাম্বুল্যান্সসহ যানবাহন এই পথ দিয়ে প্রবেশ করছে। গতকাল দুপুরে শিক্ষার্থীরা দেখতে পান খেলার মাঠ থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত রাস্তা খুঁড়ে ড্রেনের মতো করা হয়েছে। এতে আর যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

রাস্তা খুঁড়ে ড্রেন বানানোর কাজ করা শ্রমিকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক চৌধুরী সউদ বিন আম্বিয়ার নির্দেশে তাঁরা সড়ক খুঁড়ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে সউদ বিন আম্বিয়াকে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

আন্দোলন থেকে সরে যেতে ফোনে হুমকি : শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন বিভাগের কিছু শিক্ষক ফোনে তাঁদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছেন। গতকাল দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ করেন।

সংহতি জানিয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমাবেশ : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সিলেটে সমাবেশ করেছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা। ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি দীপংকর সরকারের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নগর সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

২৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি : শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে দেশে ও প্রবাসে থাকা সিলেটের প্রতিনিধিত্বশীল ২৫ নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উপাচার্য, শিক্ষক নেতা। রাজনৈতিক নেতা আর ছাত্র নেতাদের দাবা খেলার সময় এখন নয়। আমাদের সন্তানরা উন্মুক্ত আকাশের নিচে অনশন করছে। সন্তানদের উন্মুক্ত আকাশের নিচে অভুক্ত অবস্থায় রেখে আমরা সুখনিদ্রায় যেতে পারি না। ’

ওসমানী মেডিক্যাল ছাত্রলীগের সংহতি : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগ। কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি আমরা সংহতি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য আমরা সাত সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম পাঠিয়েছি। ’

আন্দোলনস্থলে বিএনপির প্রতিনিধিদল : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে গতকাল বিকেলে ক্যাম্পাসে যান বিএনপির স্থানীয় নেতারা। তাঁরা আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকীসহ অন্যরা।

মধ্যরাতে মশাল মিছিল : এদিকে গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। মধ্যরাতে আরো একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  

 

 

 



সাতদিনের সেরা