kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

ডিএসসিএসসি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে চুপ থাকব না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে চুপ থাকব না

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অগ্রগতি কেউ থামাতে পারবে না।   কারণ, এই দেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠেছে। এই মর্যাদা বজায় রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) ‘ডিএসসিএসসি কোর্স ২০২১-২২’-এর গ্র্যাজুয়েশন প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সের এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই, আর ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ আমরা উদযাপন করব। কাজেই আমাদের নবীন ট্রেনিংপ্রাপ্ত অফিসারদের কাছে আমার একটাই আবেদন থাকবে, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে। সব সময় মাথা উঁচু করে চলতে হবে এবং দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, এখন আর বাংলাদেশকে কেউ অবহেলা করতে পারে না। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বদরবারে মর্যাদা পেয়েছে। এই মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।

আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সেভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো জাতীয় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করার পর যে সম্মান আমরা আন্তর্জাতিকভাবে পেয়েছিলাম এবং ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যে সম্মান আমরা হারিয়েছিলাম, আজকে আবার আমরা সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছি। ’

সরকারপ্রধান আরো বলেন, ‘আমি একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, একসময় বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশে অনেক নেতিবাচক কথা ছিল। তবে এখনো কিছু কিছু লোক আছে বাংলাদেশ সম্পর্কে বদনাম করতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আমরা যে দক্ষতা দেখিয়েছি তার ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে আজকে উজ্জ্বল হয়েছে। ’

প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করিয়ে দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, করোনার আবার নতুন ভেরিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। কাজেই সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন। নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন। ’

২০০৮ সাল থেকে পর পর তিন দফা নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন যুগোপযোগী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়নের নানা পদক্ষেপের উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও তুলে ধরেন।

ডিএসসিএসসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. জুবায়ের সালেহীন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

এবারে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৮টি দেশের ৪৭ জন বিদেশি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তিনজন কর্মকর্তাসহ মোট ২৫১ জন পিএসসি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ‘ডিএসসিএসসি’ এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ১২৮টি কোর্স পরিচালনা করেছে এবং পাঁচ হাজার ৬৮৬ জনকে ডিগ্রি প্রদান করেছে। ৪৩টি দেশের এক হাজার ২৫৫ জন কর্মকর্তা এখান থেকে ডিগ্রি লাভ করেছেন। সূত্র : বাসস 



সাতদিনের সেরা