kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

ইসি গঠন নিয়ে বিএনপি

দলীয় স্বার্থে খসড়া আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দলীয় স্বার্থে খসড়া আইন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে মন্ত্রিসভায় যে আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান সার্চ কমিটিকে দলীয় স্বার্থে আইনি রূপ দেওয়ার অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, ‘এর ফলাফল হবে যেই লাউ, সেই কদু। এবার সম্ভবত হতে যাচ্ছে একটি পচা কদু। ’

গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, অনুগত ও অপদার্থ ইসি গঠনের চলমান প্রক্রিয়া পর্বতে মূষিকের চেয়ে বেশি কিছু প্রসব করবে না। এত দিন ধরে যেটা প্রশাসনিক কায়দায় হয়েছে, এখন সেটা আইনি কায়দায় হবে। এ জন্যই এটি ‘যেই লাউ, সেই কদু।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পচা কদু’ এ জন্য বলছি, খসড়া আইনে আরেকটি প্রস্তাব করা হয়েছে, সরকারি চাকরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ কমিশনের সদস্য হতে পারবেন না। অর্থাৎ সুশীসমাজের কেউ অথবা কোনো শিক্ষাবিদ, কোনো আইনজ্ঞ সদস্য হতে পারবেন না। ’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দুনিয়ার কোথায় এ রকম বিধি-নিষেধ আছে?

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সারা জীবন সরকারের আদেশ মেনে চলা যাঁদের অভ্যাস, সেই সরকারি কর্মকর্তা বা যাঁদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার...তাঁদেরকেই দিয়ে শুধু ইসি করার একটা আইন তো সেই কদু...। আমরা সে জন্য বলেছি, সম্ভবত পচা কদু হতে যাচ্ছে। ’

খসড়া আইনের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অনির্বাচিত একটি সরকারের কাছ থেকে জনগণ এর বেশি কিছু প্রত্যাশা করে না। একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের নৈতিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য আছে শুধু একটি নির্বাচিত সরকারের।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো এই সরকার এবং এই সরকারি প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করতে রাজি নই। আমরা বলে দিয়েছি, এই অনির্বাচিত সরকার গণবিরোধী এবং তাদের সাজানো প্রশাসনের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। আর তাদের করা যে নির্বাচন কমিশন অযোগ্য, অপদার্থ হিসেবে সারা দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত, তাদের অধীনে তো আমরা নেই। তারা এবার যেটা করতে যাচ্ছে এটা শেষ পর্যন্ত একই জিনিস দাঁড়াবে।

স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে পরিষ্কার বলা আছে, সকল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। কাজেই যে যেই আইন বলেন আর যাই বলেন চূড়ান্তভাবে তাঁর অনুমোদন ছাড়া কিছুই হবে না। উনি এত দিন ধরে যা করে আসছেন, তার বাইরে কিছু করবেন এমনটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। ’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিরও কোনো ক্ষমতা নেই, যাঁরা গেছেন তাঁদেরও কোনো ক্ষমতা নেই। এই সংলাপ অর্থহীন। এই সংলাপে কোনো কিছুই অর্জিত হয়নি, বরং ক্রমান্বয়ে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সংলাপে অনেকেই গেলেন, নানা প্রস্তাব করলেন। একজন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারেও বলেছেন। কিন্তু এর কোনো কিছু কি আমরা দেখলাম? উনাকে (রাষ্ট্রপতি) সংলাপ করতে দিয়ে মন্ত্রিসভা আইন প্রণয়নের কাজ করেছে। সেই কারণেই আমরা এই সংলাপে যাইনি। এটির কোনো অর্থ নেই। ’

এই খসড়া আইন আগের সার্চ কমিটির আইনি বৈধতা : রব

আইনের প্রক্রিয়াকে ছেলে ভোলানো সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদ। গতকাল এক বিবৃতিতে দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় এমন কমিশন গঠনে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত আইন অতীতের নীলনকশার সার্চ কমিটির আইনগত বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। এ আইনে জনস্বার্থে বা গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পূরণের নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে না।

আ স ম রব বলেন, এখনই নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার ও নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা অর্থাৎ জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য স্থাপন করতে হবে।



সাতদিনের সেরা