kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

সংলাপে আওয়ামী লীগ

প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা সরকারি চাকুরে হতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা সরকারি চাকুরে হতে হবে

নির্বাচন পরিচালনায় শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত লোকজনের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয় দলটি।

গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ এসব প্রস্তাব দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর এর মাধ্যমে গতকাল ইসি গঠনে রাষ্ট্রাপতির সংলাপ শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত সংলাপে  আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

সংলাপে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন আইন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে নানা প্রস্তাব দিয়েছে।

সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসসকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের প্রস্তাব ছিল—সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। রাষ্ট্রপতি যাদের উপযুক্ত বিবেচনা করবেন সেভাবে তিনি তাদের নিয়োগ দেবেন।

প্রেসসচিব আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ইভিএম পদ্ধতিসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব করে। এ ছাড়া একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা ও ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে।

তারা নির্বাচনে পেশিশক্তি বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব পর্যায়ের ভোটারদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা ও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করে। লিখিত প্রস্তাবে তারা নির্বাচনের দিন, নির্বাচনের আগে এবং পরে ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের আবশ্যকীয় সব সংস্থা এবং নির্বাচনের কর্মপরিধি অবশ্যই একটি রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে বলেন, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করা যায় সে ব্যাপারে তাঁর দল ও সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে তাঁর দল ও সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের জন্য আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিসভা পরিষদের অনুমোদন দিয়েছে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আইনটি প্রণীত হবে।

রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত আইনটিতে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি যত দ্রুত সম্ভব আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আইনেই জনমতের প্রতিফলন ঘটবে।

৩২টি দলকে আমন্ত্রণ : এবার রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের মধ্যে ৩২টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণে এ সংলাপ শুরু হয়। এরপর গতকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগসহ মোট ২৫টি দল এ সংলাপে অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক জোট (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরামের একাংশ, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, তরীকত ফেডারেশন, খেলাফত মজলিস, কল্যাণ পার্টি, বিএনএফ, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশও রয়েছে।

অন্যদিকে আমন্ত্রণ পাওয়া দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), এলডিপি, জেএসডি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং মুসলিম লীগ সংলাপে অংশ নেয়নি।

অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বেশির ভাগই সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব রাখে।

অংশ না নেওয়া দলগুলোর যুক্তি : যে সাতটি দল অংশ নেয়নি, সেসব দলের পক্ষে এ সংলাপকে অর্থহীন বলে আখ্যায়িত করা হয়। বিএনপি সংলাপের আমন্ত্রণ পাওয়ার আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের গঠন নিয়ে সংলাপকে শুধু সময়ের অপচয় বলে মনে করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এর আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা