kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি, বাস-লঞ্চে নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি, বাস-লঞ্চে নেই

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও আসনের অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। গতকাল রাজধানী থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে গতকাল শনিবার থেকে সব আন্ত নগর ট্রেনে এক সিট খালি রেখে চলাচল শুরু হয়েছে। একইভাবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা ছিল অন্যান্য গণপরিবহনেরও, কিন্তু সেটি হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যত সিট তত যাত্রীর বেশি নিয়ে চলাচল করেছে বাস।

বিজ্ঞাপন

ঠাসাঠাসি করে দাঁড় করিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা, করোনা টিকার সনদ ছাড়া চালক ও তাঁর সহকারীকে বাস চালাতে নিষেধ করা হলেও বাস্তবে এসবের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা লঞ্চেরও। অন্যদিকে বিধি-নিষেধ মানাতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বাসে অভিযান চালিয়েছে বিআরটিএ।

অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও বাস মালিকরা তা মানছেন না। যত সিট তত যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর ঘোষণা দেন তাঁরা। তাঁরা বলছেন, প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও অনুমতি নিয়ে তাঁরা পুরো যাত্রী নিয়ে বাস চালাচ্ছেন। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের মৌখিক অনুমতি পাওয়ায় যত আসন তত যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলছে। ’

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কোনো গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না বিধি-নিষেধ। রাজধানীর জুরাইন এলাকা থেকে দিয়াবাড়ী পর্যন্ত চলাচল করে রাইদা পরিবহনের বাস। গতকাল দুপুরে দেখা গেছে, ওই বাসে যাত্রী ওঠার সময় কোনোটাতেই জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছিল না। এমনকি মাস্ক পরা অবস্থায় ছিল না অনেক যাত্রী।

রাইদা পরিবহনের একটি বাস দুপুর ১টায় জুরাইন থেকে ছাড়ার সময় অর্ধেক আসন পূর্ণ ছিল। বাসটি দোলাইরপাড় হয়ে সায়েদাবাদ পৌঁছতেই বাকি আসনও পূর্ণ হয়। এর পরও যাত্রী উঠতে থাকে। কমলাপুর এলাকায় যাওয়ার পর আরো ১০ থেকে ১২ জন ওঠে। আসন না থাকায় এসব যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিল। ওই যাত্রীর বেশির ভাগকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা যায়নি।

জানতে চাইলে বাসের সহকারী আলামিন কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁদের কাছে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই। এ কারণে আগের মতোই বাস চালাচ্ছেন তাঁরা। এ সময় পাশ থেকে এক যাত্রী বলতে থাকেন, ‘কোথায় করোনা! কিসের ঝামেলা করে কয়েক দিন পর পর!’ ওই যাত্রীর সঙ্গে সুর মেলান আরো কয়েকজন। একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে মিরপুর, আজিমপুর, গাবতলীসহ অন্য সড়কে চলা গণপরিবহনেও।

অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলেছে আন্ত নগর ট্রেন, লোকালে গোলমাল

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল সকাল থেকে ট্রেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাস্ক ছাড়া স্টেশনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে, আন্ত নগর ট্রেনের কাউন্টারে তেমন ভিড় নেই। তবে কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারে মানুষের দীর্ঘ লাইন। বেশির ভাগ মানুষকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা যায়নি। লাইনে দাঁড়ানোয় ছিল না শারীরিক দূরত্ব।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। আমাদের তরফ থেকে সব যাত্রীকে সচেতন করা হচ্ছে। ’

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী সুমন মিয়া বলেন, ‘ট্রেনে এক সিট খালি রেখে আমরা বসেছি। স্টেশনে প্রবেশের সময় মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ’

আন্ত নগর ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেলেও লোকাল ও কমিউটার ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল।

লঞ্চে বিধি-নিষেধের বালাই নেই

বরিশাল থেকে ঢাকায় চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না। গাদাগাদি করে যাত্রী দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে লঞ্চ। স্বাস্থ্যবিধি মানায় পন্টুন এলাকায় মাইকিং করা ছাড়া বিআইডাব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষের অন্য কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গতকাল সন্ধ্যায় বরিশাল নৌবন্দর এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

নৌবন্দরে লঞ্চ টার্মিনাল ও লঞ্চে গিয়ে দেখা গেছে, বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে সাতটি লঞ্চে যাত্রী তুলছে কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব লঞ্চে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রী তোলা হয়। কোথাও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি। টার্মিনাল ও লঞ্চের ডেকে অবস্থান নেওয়া বেশির ভাগ যাত্রীকে মাস্ক না পরা অবস্থায় দেখা যায়। কোনো কোনো যাত্রীর মাস্ক থাকলেও তা ঝুলছিল তাদের থুতনির নিচে বা গলায়। ডেকের যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে একে অন্যের গা ঘেঁষে বসে ছিল। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের হাতে-পায়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করলেও মাস্ক সরবরাহ করতে দেখা যায়নি।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘শত অনুরোধ করেও আমরা যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পারছি না। লঞ্চে প্রধান গেট পর্যন্ত তাদের মুখে মাস্ক থাকে। প্রধান ফটক পার হলেই বেশির ভাগ যাত্রী মুখের মাস্ক থুতনিতে কিংবা গলায় ঝুলিয়ে রাখে। ’

বিধি-নিষেধ মানাতে বিআরটিএর অভিযান

গতকাল সকাল থেকে করোনা বিধি-নিষেধ মানাতে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাসে অভিযান চালান বিআরটিএর ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সিএনজিচালিত ও ডিজেলচালিত ১৮২টি বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৪২টি বাসের বিরুদ্ধে মামলা এবং ৪২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া রুট ভায়োলেশন (পারমিট করা রুটে না চলা) সাতটি বাসকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অন্য কিছু অনিয়ম করায় ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।



সাতদিনের সেরা