kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

দুই প্রার্থীই সুষ্ঠু ভোট চান

তৈমুর ফারুক তুষার ও দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ থেকে   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



দুই প্রার্থীই সুষ্ঠু ভোট চান

ইভিএম নিয়ে গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ সিটির বিভিন্ন কেন্দ্রে যান। চাষাঢ়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট আজ রবিবার। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবিরই চাইছে শান্তিপূর্ণ ভোট। উভয় পক্ষ মনে করছে, সুষ্ঠু ভোট হলে তারাই জিতবে।

বিজ্ঞাপন

ফলে দুই পক্ষই কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টায় থাকবে। তবে ভোটের আগের দিন গতকাল শনিবারও তৈমূর শিবিরে ছিল গ্রেপ্তার আতঙ্ক।

আইভী ও তৈমূরের নির্বাচন পরিচালনায় জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কাজ পরিচালনার জন্য উভয় পক্ষই কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করেছে। এসব কমিটিকে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার দিকে গুরুত্ব দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষই মনে করছে, নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

১ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সানজিদা খানম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে, নৌকা এমনিতেই জিতবে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে হবে না। অথচ তারা আবার নিজেদের ভোটারদের সবাইকে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলছে। এ অবস্থায় আমরা দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার। ’

গতকাল নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলীয় পরিচয় নয়, শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে ব্যবধান গড়তে পারে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা। আইভী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেও দলীয় একটি অংশ তাঁর পক্ষে নেই। আবার তৈমূরের পক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা কাজ করলেও একটি অংশ শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেনি। ফলে দলের বাইরের ভোটারদের যিনি আকৃষ্ট করতে পারবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন।

এবারে নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, ২৭ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও ৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩২ নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ ভোট চাইলেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরোধে অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল বিকেলে নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পাশে কথা হয় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার চান মিয়ার সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

দুপুরে নগরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় কথা হয় পথচারী শফিক এজাজের সঙ্গে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের এই ভোটার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব চলছে। কেউ কাউকে ছাড় দেবে না। ভোটের দিন মারামারি হলে এদের মধ্যেই হবে। নৌকার সঙ্গে হাতির সমর্থকদের মারামারির আশঙ্কা কম। ’

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে থাকবেন আওয়ামী লীগের নেতারা

সিটি করপোরেশনের ২৭ ওয়ার্ডে সেলিনা হায়াত আইভীর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতা। আজ ভোটের দিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিটি ওয়ার্ডে উপস্থিত থেকে ভোটের কাজ সমন্বয় করবেন।

আমার কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে : তৈমূর

গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর মাসদাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকার অভিযোগ করেন, ‘যাদের কাছে আমাদের অভিযোগ করার কথা, তারাই নির্বাচনকে কলুষিত করছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। ’

তৈমূর আলম বলেন, ‘বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত থেকে আমি কাগজ (জামিন) নিয়ে এসেছি। গত বছরের হেফাজতের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা আমার নির্বাচনের নানা কাজের দায়িত্বে আছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ’

তৈমূর আলম বলেন, ‘আমার চিফ এজেন্ট এ টি এম কামালের বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতির বাড়িতেও তারা গেছে। আমার সমর্থন করছে, এমন আরো অনেকের বাড়িতেও যাচ্ছে। আমরা এতে ভীত নই। আমরা মাঠে থাকব। আমার মৃত্যু হলে নির্বাচনের মাঠেই হবে। ’

দাগী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে : জেলা প্রশাসক

তৈমূর আলম খন্দকারের অভিযোগ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকে লিখিত, ফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো অভিযোগ পাইনি। আমরা আমাদের নির্বাচনী রুটিন কাজ করছি। দাগী আসামিদের বিরুদ্ধেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ’

মোস্তাইন বিল্লাহ গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশে ৭৫টি টিম ও ৬৫টি র‌্যাবের টিম মাঠে থাকবে। বিজিবিও আমাদের সঙ্গে কাজ করবে। কেন্দ্রগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ-বিজিবি কাজ করেছে। ’

কাউকে কেন্দ্র দখল করতে দেওয়া হবে না : পুলিশ সুপার

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, কাউকে কেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না। ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। নির্বাচনে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবিসহ পাঁচ হাজারের বেশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। ’

তৈমূর আলম খন্দকারের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছে না। কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। যে সন্ত্রাসী বা মাদক কারবারির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন : রিটার্নিং অফিসার

নাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মাহফুজা আক্তার বলেছেন, নির্বাচনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৯২টি কেন্দ্রের এক হাজার ৩৩৩টি ভোটকক্ষের জন্য দুই হাজার ইভিএম ব্যবহৃত হবে। ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখতে ৪৮ জনের টেকনিক্যাল টিম থাকছে।

ভোটকেন্দ্রে থাকা সিসি ক্যামেরা খুলে নেওয়ার প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ভোট প্রদান একটি গোপনীয় বিষয়, তাই সিসি ক্যামেরা খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নেই। কোনোটি থাকবে আবার কোনোটিতে থাকবে না—এই ভেবে সিসি ক্যামেরা খুলে নেওয়া হয়েছে।

নাসিক নির্বাচনে এবারই প্রথম সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে সিটিতে পরিণত হওয়ার পর এবার তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে ২০১১ ও ২০১৬ সালে নির্বাচন হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ শহর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯ এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫১৮ জন।



সাতদিনের সেরা