kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে ডিবি : তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে ডিবি : তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক খন্দকার মনিরুল ইসলাম রবি ও জামাতা আশরাফ খান, যুবদলের শামীম, আব্দুর রহিমসহ তাঁর ১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হোক।’

গতকাল শুক্রবার শহরের মিশনপাড়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তৈমূর যিনি হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর বলেন, ‘ঢাকা থেকে বড় বড় লোকেরা এসে প্রভাব বিস্তার করছেন, প্রশাসনের ওপর চাপ দিচ্ছেন; নির্বাচন কমিশনকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে নেতাকর্মী এবং পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তবু আমি এ নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকব।’

সরকারদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সার্কিট হাউস, ডাকবাংলো নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ করে তৈমূর বলেন, বিভিন্ন জেলার সরকারদলীয় নেতারা সেখানে অবস্থান করছেন। আইন অনুসারে সরকারি কোনো গাড়ি ও ডাকবাংলো ব্যবহার করার নিয়ম নেই। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে আমাকে মনোনীত করা হলেও আমি নির্বাচন করিনি। শহরবাসীকে দুর্ভোগ লাঘবের জন্যই আজ আমাকে নির্বাচনে নামতে হয়েছে।’

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি দলের নেতারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করে তৈমূর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে আমরা অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে অনেক অভিযোগ করেছিলাম। সে অভিযোগের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা না হয়েও তিনি তাঁর দলীয় সঙ্গীদের নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। এটা আইনগতভাবে অন্যায় এবং তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন; একজন উচ্চ পর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে এটা আমরা আশা করি না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তৈমূর বলেন, ‘তাঁদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনগণ সন্দিহান হয়ে পড়েছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রত্যাশা করে আপনি এ দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক হয়ে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, স্বচ্ছ এবং সুন্দরভাবে করার জন্য ব্যবস্থা নেবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আমি নাকি বসে পড়ব। বসে পড়ার জন্য নির্বাচনে নামিনি। নির্বাচন করার জন্য নেমেছি। আমি একটা দল করি। আমি বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য। এই দলের জন্য রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। মিডিয়াতে দেখেছেন পুলিশ কতবার শারীরিকভাবে আমাকে নির্যাতন করেছে। তখন আমি দলের ক্যান্ডিডেট ছিলাম। নেত্রীর নির্দেশে আমি সরে দাঁড়াই। আজ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করিনি কেন আমাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। কারণ আমি মনে করি, আমি দল করি। দলের প্রতি আমার আনুগত্য থাকা দরকার। তাই আমি দলের প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করেছি।’

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈমূর বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নারায়ণগঞ্জের একটি সভায় বলেছিলেন, একজন প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এবং আরেকজনকে পরাজিত করতে আমরা তৈমূরকে বসিয়েছি। সেটাও আমি মাথা পেতে নিয়েছি।’

বন্দরে নেচে-গেয়ে মিছিল

গতকাল বিকেলে বন্দরের সিরাজউদ্দৌলা মাঠে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তৈমূর আলম খন্দকার। বক্তৃতা শেষে সেখান থেকে মিছিল বের করা হয়। এ সময় বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন ও হাতি প্রতীক নিয়ে আগতরা মিছিল করে। বাদ্যের তালে তালে সমর্থকরা নেচে-গেয়ে ভোটারদের ভোট চায়।

বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমরা কয়েকজন ছিলাম তৈমূর ভাইয়ের সঙ্গে। আমাদের ডেকে চমকে দিয়েছেন এখানকার ভোটার ও নেতাকর্মীরা। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, নাগরিক ঐক্য—সর্বস্তরের মানুষ সমাবেশ ও মিছিলে যোগ দেয়। হাজার হাজার মানুষের সমাগমে চমকে উঠি।’

তৈমূর সেখানে বলেন, ‘আমি বন্দরবাসীর ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দিলাম। আমি জয়ী হই বা না হই, আপনাদের পাশে আমি ছিলাম, আছি, থাকব। আপনারা আমাকে চমকে দিয়েছেন এই আয়োজনে। বন্দরবাসীর নাসিকের ওপর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আমার প্রতি ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি এই মিছিল। আমি ভোট চাই, দোয়াও চাই। আপনারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ফলাফল নিয়ে আসবেন—এটাই আমার বিশ্বাস।’

 

 



সাতদিনের সেরা