kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নৌকাকে হারাতে অনেক পক্ষ এক হয়েছে : আইভী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নৌকাকে হারাতে অনেক পক্ষ এক হয়েছে : আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রতিটি নির্বাচনে একেক রকম চরিত্র ছিল। এবারের নির্বাচনও অনেক চ্যালেঞ্জিং। সেটা বিভিন্ন কারণেই, কিন্তু এটা আমার শেষ নির্বাচন কি না, সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না।’

গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাড়ি চুনকা কুটিরে সংবাদ সম্মেলনে আইভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আইভীকে পরাজিত করার জন্য অনেক পক্ষ এক হয়ে কাজ করছে। সেই পক্ষটি ঘরের হতে পারে, আবার বাইরেরও হতে পারে। সবাই মিলে গেছে কিভাবে আমাকে পরাজিত করা যায়, কিভাবে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়। কারণ সবাই জানে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।’

আইভী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীর চেয়ে তিনি লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হবেন। তিনি বলেন, ‘একটি পক্ষ সহিংসতা চাচ্ছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় যেখানে সবচেয়ে বেশি জমজমাট, সেই জায়গাগুলোর মধ্যে হয়তো কেউ সহিংসতা করে ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দিতে পারে।’

সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘প্রশাসনকে বরাবরই বলে আসছি, ভোটের দিন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে, আমার নারী ভোটাররা যেন আসতে পারে, নতুন প্রজন্মের ভোটাররা যেন আসতে পারে। কারণ আমি জানি, এই ভোটগুলো আমার এবং আমি নির্বাচনে জিতব ইনশাআল্লাহ। সুতরাং আমার বিজয় সুনিশ্চিত জেনে কেউ যদি সহিংসতা করে, তাহলে এটা ঠিক হবে না।’

আইভী বলেন, ‘আমি সব সময় সহিংসতার বিপক্ষে। আমার পক্ষ থেকে কোনো সহিংসতা হবে না। সহিংসতা করবে—আমার ওই ধরনের কোনো বাহিনীই নাই এবং আমি কোনো দিন সহিংসতা  করিও নাই, কিন্তু সহিংসতা হলে আমার ক্ষতি হবে। আমার ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে পারবে না।’

আইভী বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৈমূর। সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘বহিরাগতদের দিয়ে আমি নির্বাচন করছি। উনি (তৈমূর) কী বোঝাতে চাচ্ছেন, সেটা আমার জানা নেই। আমি সব সময় বলেছি জনতাই আমার শক্তি, আমার আগের নির্বাচনের ট্র্যাডিশন আমি মানুষের কাছেই যাই। বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচন করব কেন, যেখানে আমার ভিত্তি হলো জনগণ।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা করেছেন, সেটা জানেন না জানিয়ে আইভী বলেন, ‘আমার যাঁরা নেতা আছেন, যাঁরা ঢাকা থেকে এসেছেন, তাঁরা জানেন আমার সম্পর্কে। নেতৃবৃন্দ প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেছেন আইভী কোন অবস্থানে আছে। আমার নেতৃবৃন্দ আমার বিজয় নিয়ে কখনোই শঙ্কিত ছিলেন না।’ তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা কাউকেই প্রভাবিত করছেন না। তাঁরা কাউকে প্রভাবিত করছেন, এই কথাটা সঠিক নয়। তাঁরা অন্য কারণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।

ঢাকঢোল পিটিয়ে নৌকার পক্ষে মিছিল

প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল বিকেল ৩টায় পথসভা শুরু করেন আইভী। পরে বিকেল ৫টায় বঙ্গবন্ধু সড়কে বিশাল মিছিল করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন নৌকার প্রার্থী আইভী। ঢাকঢোল পিটিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয় আশপাশ। সড়কের আশপাশের মানুষ আইভীকে দেখার জন্য ভিড় করে। তিনি হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

পথসভা চলাকালে সড়কের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।

পথসভায় আইভী বলেন, ‘এ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, জনগণের ঘাঁটি। আমার বাবা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলেন। তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে নারায়ণগঞ্জের আনাচকানাচে উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে দেখেছি। আমি নারায়ণগঞ্জবাসীকে অনুরোধ করব, আমাকে পাঁচ বছরের জন্য সুযোগ দেন। যেকোনো সময় অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। আমি আপনাদের জন্য মৃত্যুকেও বরণ করতে রাজি আছি। আমি ঘর-সংসারের দিকে তাকাইনি। আশা করি, আপনারা আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না।’

 



সাতদিনের সেরা