kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নোয়াখালী পৌর নির্বাচন

বৈরী আবহাওয়ায়ও জমজমাট প্রচারণা

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈরী আবহাওয়ায়ও জমজমাট প্রচারণা

নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শহিদ উল্যা খান (বাঁয়ে); স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম কিরণ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল শুক্রবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন মেয়র পদপ্রার্থীরা। দিনভর মেঘলা আকাশ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সমর্থকদের নিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তাঁরা। তবে কেউ কোনো বড় সমাবেশ বা মিছিল করেননি। সকাল থেকে গণসংযোগ এবং বিকেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন তাঁরা।

দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন প্রার্থীর মাইকের আওয়াজে শহরের বাসিন্দারা কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়ে। রাত ৮টা পর্যন্ত চলে মাইকে প্রচারণা। বিভিন্ন সুরে ও গানে ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে দেখা যায় মাইকওয়ালাদের। কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়েছেন। কাল রবিবার পৌরসভার ভোট হবে।

সকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র শহিদ উল্যা খান জেলা শহরের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। দুপুরে নোয়াখালী পৌর বাজারের দোকানি, ব্যবসায়ীসহ অন্যদের সঙ্গে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন শাহিন ছিলেন। এ ছাড়া পৌর এলাকার সব মসজিদে বাদ জুমা দলীয় কর্মীরা মুসল্লিদের কাছে নৌকার জন্য ভোট চান।

বিকেলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভোটের বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেন শহিদ উল্যাহ। এ সময়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে শহিদ উল্যাহ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত সাড়ে পাঁচ বছর পৌরসভার মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি, পৌরবাসী এর প্রতিদান দেবে। আমি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণের রায় পাব বলে আশা রাখি।’ 

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া কম্পিউটার প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী শহিদুল ইসলাম কিরন পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতারা বাজার, মহব্বত পুর, লালপুর, শ্রীপুরের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও ভোট চাইতে দেখা যায়।

দুপুরে শহিদুল ইসলাম সোনাপুর পৌরবাজারে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন দোকানিদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি পৌরসভার নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিকেলে তিনি তাঁর দলীয় কর্মী-সমর্থক ও বিভিন্ন কেন্দ্রের এজেন্টদের ব্রিফিং দেন।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফিরোজ আলম মতিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে আমদের মনোনয়ন দেয়নি। তবে অনেক স্থানে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ভোট করেছেন। দলও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা ভোট বর্জন করিনি। একজন ভালো প্রার্থী হিসেবে তাঁর সঙ্গে আছি। আমাদের অনেকেই কাজ করছেন।’

শহিদুল ইসলাম কিরন বলেন, ‘এ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো। আমরা শেষ পর্যন্ত এ অবস্থা দেখতে চাই। এভাবে পরিবেশ থাকলে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন।’

এদিকে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মোবাইল প্রতীকের লুত্ফুল হায়দার লেনিন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর, মহিলা কলেজ সড়ক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লইয়ার্স কলোনি এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন। বিকেলে তিনি তাঁর সমর্থক ও কেন্দ্রের এজেন্টদের ব্রিফিং দেন। জানতে চাইলে প্রার্থী লুত্ফুল হায়দার বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারদলীয় প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে আমার সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী সামসুল ইসলাম মজনু প্রচারণার শেষ দিনে তাঁর এলাকার ভোটকেন্দ্রের আশপাশের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চান। তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো আছে। 

এ ছাড়া অন্য মেয়র পদপ্রার্থীদের শেষ দিনে মাইকিং করে প্রচারে থাকতে দেখা যায়।

জানতে চাইলে নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রবিউল আলম বলেন. ‘ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো। আমরা আশা করব, ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এ পরিবেশ থাকবে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’



সাতদিনের সেরা