kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

তিন বিমানবন্দর

অ্যান্টিজেন টেস্ট ছাড়াই যাতায়াত করছে যাত্রীরা

মাসুদ রুমী   

১৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অ্যান্টিজেন টেস্ট ছাড়াই যাতায়াত করছে যাত্রীরা

করোনা নিয়ন্ত্রণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হয়নি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। উল্টো গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ বিদেশগামী যাত্রীর করোনা শনাক্ত হয়েছে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১ এবং তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৯ যাত্রীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এ ছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৫ যাত্রীর করোনা শনাক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

অথচ তাদের অনেকেরই করোনা নেগেটিভ সনদ ছিল।

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের দেওয়া ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রথম দিনে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এতে করোনা সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের ১১ দফা নির্দেশনার ৫ ও ৭ নম্বরে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে, বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কভিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু তিনটি বিমানবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, এই নিদের্শনা উপেক্ষিত হচ্ছে।

কেন র‌্যাপিড টেস্ট করা হচ্ছে না—জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল সন্ধায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করতে পারিনি। আমরা এখনো প্রস্তুত নই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলছি। ’

সাজ্জাদ আরো বলেন, ফ্লাইটসংখ্যা না কমানো পর্যন্ত বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন। গতকালও ১০৭টি ফ্লাইটে অন্তত ২০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। এত ফ্লাইট ওঠানামা করলেও বিমানবন্দরে স্থান সংকটে ডেস্ক বাড়ানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

গতকাল সরেজমিনে বিমানবন্দরে গিয়ে আগের মতোই ভিড় দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মাইকিং করেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না পরিস্থিতি। এমন ঝুঁকির মধ্য দিয়েই হাজার হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করছে।

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘এক দিন আগেই এসেছি বিমানবন্দরে। তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও করোনা পরীক্ষা করাতে পারিনি। ’

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের বিধান থাকলেও লন্ডন থেকে সিলেটে এসে টেস্ট ছাড়াই বিমানবন্দর ছেড়েছে প্রায় ২০০ যাত্রী। সব প্রস্তুতি থাকার পরও গতকাল লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেটে আসা যাত্রীদের অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়নি।

জানা গেছে, সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না থাকায় তাদের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়নি। ফলে এই পরীক্ষা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, ‘লন্ডন থেকে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট এসেছে। তবে কেন র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়নি, এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের কার্যালয় ভালো বলতে পারবে। ’

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতকালই (বুধবার) আমরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চাহিদা অনুযায়ী মেডিক্যাল কিট ও টেকনোলজিস্ট দিয়েছি। তারপর কেন হয়নি, সেটা আমি বলতে পারছি না। ’

সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমদ সিরাজুম মুনীর বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি থাকার পরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় আজ বিমানবন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়নি। ’

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম ও ইয়াহিয়া ফজল, সিলেট)

 



সাতদিনের সেরা