kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

অ্যাপল প্রথম তিন ট্রিলিয়নের মাইলফলকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অ্যাপল প্রথম তিন ট্রিলিয়নের মাইলফলকে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কম্পানি হিসেবে অ্যাপলের শেয়ারের মূল্য তিন ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। গত সোমবার নিউ ইয়র্কের শেয়ারবাজার অনুযায়ী দেশটির শীর্ষ এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আর্থিকমূল্য ওই মাইলফলক স্পর্শ করে। প্রসঙ্গত, মার্কিন পদ্ধতিতে এক ট্রিলিয়ন হচ্ছে এক লাখ কোটি।

২০১৮ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের শেয়ারের বাজারমূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সেটাও ছিল দেশটির প্রথম কোনো কম্পানির ট্রিলিয়ন ডলারের কোটায় পা রাখা। প্রবৃদ্ধি শনৈঃ শনৈঃ বেড়ে অ্যাপলের শেয়ারের অর্থমূল্য ২০২০ সালে  পৌঁছায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারে।

কভিড মহামারি শুরু হওয়ার পর লকডাউনের মধ্যে বিশ্বজুড়েই মানুষ স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের মতো ডিভাইসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এসব তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্যের চাহিদা বাড়ায় অন্য অনেক কম্পানির মতো অ্যাপলেরও শেয়ারেরবাজারমূল্য বাড়তে থাকে। তবে অ্যাপল বাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হওয়ায় তার প্রবৃদ্ধি ঘটেছে লক্ষণীয় মাত্রায়। তারই ফলে ১৬ মাসের মধ্যে কম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য দুই ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে তিন ট্রিলিয়নে পৌঁছাল। ২০০৭ সালে আইফোনের যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৮০০ শতাংশ।

অ্যাপলের শেয়ারের বাজারমূল্যের এই উল্লম্ফন মূলত টিম কুকের কৃতিত্ব। ২০১১ সালে কম্পানির স্বপ্নদ্রষ্টা সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মৃত্যুর কয়েক দিন পর প্রধান নির্বাহী হন অনন্য উদ্ভাবনী ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত টিম কুক।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সিলিকন ভ্যালির আধিপত্য রয়েছে। তবে শেয়ারের মূল্য দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি এমন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যাপলের বাইরে রয়েছে শুধু মাইক্রোসফটই।

৪৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত অ্যাপল ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে তাদের প্রধান মুনাফার উৎস পরিণত করেছিল। বর্তমানে অ্যাপলের আয়ের বেশির ভাগই আসে আইফোন থেকে। তাদের মোট বিক্রি পণ্যের অর্ধেকই আইফোন। ম্যাক কম্পিউটার ও আইপ্যাডের জন্যও পরিচিত এই কম্পানি। এ ছাড়া অ্যাপলের ব্যবসার অন্যতম বড় অংশ হয়ে উঠেছে এর সফটওয়্যার। এর মধ্যে আছে অ্যাপল স্টোর, আইক্লাউড এবং মিউজিক, টেলিভিশন স্ট্রিমিং ও ফিটনেস সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের মতো পরিষেবা। অ্যাপলের ব্যবসা এখন টিম কুকের অধীনে। স্টিভ জবসের মতো মোহনীয় ও উদ্ভাবনী দক্ষতা তাঁর রয়েছে কি না তা নিয়ে শুরুতে প্রশ্ন ছিল। ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠায় তা হয়তো অনেকটাই দূর হবে। টিম কুক স্মার্টওয়াচের মতো পরিধেয় পণ্যসহ নতুন ব্যবসা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। গত বছর এসব পণ্য থেকে অ্যাপলের আয় ছিল তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কম্পানি অ্যাপল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। স্টিভ জবস ও তাঁর ব্যাবসায়িক অংশীদার স্টিভ ওজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

 



সাতদিনের সেরা