kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

এগিয়ে যাক, সুখে থাক বাংলাদেশ

৫০ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের বড় অংশ এখন জীবনসায়াহ্নে। তাঁদের মধ্য থেকে ৮০ বছর পেরিয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লিখছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিরা

মো. আহছান উল্লাহ, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এগিয়ে যাক, সুখে থাক বাংলাদেশ

রফিকুল ইসলাম

‘দেশের টানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে যুদ্ধ করেছি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বাধীনতার ৫০ বছর দেখলাম, এটাই শান্তি, এটাই সুখ। সুখে থাক বাংলাদেশ। ’

বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে মনের অনুভূতি জানাতে কালের কণ্ঠকে এ কথাই বললেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা।

বিজ্ঞাপন

৮৬ বছরে পা দেওয়া রফিকুল ইসলাম বললেন, স্বাধীনতার কামনা যখন অদম্য হয়ে ওঠে, তখন শত্রুর ভয়ংকর অস্ত্রও আবেগের কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়। স্বাধীনতাযুদ্ধ ছিল একটা জনযুদ্ধ। কাদামাটির মতো এ দেশের নরম মানুষগুলো দেশের মায়ার টানে কী করতে পারে, তা বাংলার মুক্তিপাগলরা দেখিয়ে দিয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বারোপাইকা গ্রামে জন্ম রফিকুল ইসলাম মোল্লার। খুলনা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেডিএ) সুপারভাইজার পদের চাকরি ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। প্রথমে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ৩২ জনের একটি দল গঠন করে মুজিব বাহিনীতে যোগ দেন। নৌকায় গোপালগঞ্জের ওরাকান্দি যান। সেখান থেকে দীর্ঘ সময়ে হেঁটে ভারতে যান। কলকাতায় পৌঁছালে সেখান থেকে তাঁদের গেরিলা প্রশিক্ষণের জন্য দেরাদুন পাঠানো হয়। এক মাস প্রশিক্ষণের পর পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর ক্যাম্প হয়ে দেশে ফেরেন। রফিকুলসহ ১১৯ জনের একটি প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা দলকে দেশে পাঠানো হয়। তাদের পথ চিনিয়ে নিয়ে আসা লোকটি ছিল রাজাকারের সোর্স। সে মুক্তিযোদ্ধাদের ভুল পথে যশোরের বাঘারপাড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়, যা ছিল রাজাকারদের ঘাঁটি। তাঁরা অপ্রস্তুত থাকায় প্রতিরোধের চেষ্টা করেও হানাদার পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দি হন। ১৯ দিন আটক থাকার পর ভারতের মিত্র বাহিনীর সহায়তায় তাঁরা মুক্ত হয়ে গৌরনদীতে যান এবং বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধে অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও পিছপা হননি। স্বাধীনতার পরে অস্ত্র জমা দিয়ে কর্মস্থলে ফিরে কাজে যোগ দেন।

এই প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে অশীতিপর এই মুক্তিযোদ্ধা তাঁর বর্তমান জীবনের একটি সমস্যার কথাও বললেন। রফিকুল মোল্লা বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধ করি নাই। বাংলার মানুষ সুখে থাকবে, এটাই প্রত্যাশা ছিল। ন্যায়বিচারের জন্য যে দরজায়ই গিয়েছি হতাশ করেছে। ’

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা না পেলে খুবই অসুবিধা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর ঘরের সমস্যাও দূর হচ্ছে। পাকা ঘর বরাদ্দ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরির হাত ধরে এগিয়ে যাক দেশ। সুখে থাক বাংলাদেশ। ’



সাতদিনের সেরা