kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজ

৩১০ বইয়ের স্বত্ব আব্দুল হাকিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩১০ বইয়ের স্বত্ব আব্দুল হাকিমের

পাঠকপ্রিয় স্পাই থ্রিলার ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে মালিকানা স্বত্ব শেখ আব্দুল হাকিমকে দিয়ে কপিরাইট অফিসের দেওয়া সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে বইগুলোর প্রকাশক সেবা প্রকাশনীর কাজী আনোয়ার হোসেনের করা রিটে গত বছর রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই রুল খারিজ ও কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্তের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ বাতিল করে গতকাল সোমবার রায় দিয়েছেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সাহিত্যকর্মের স্বত্ব নিয়ে দেশে ব্যতিক্রমধর্মী ও আলোচিত এ মামলা চলার মধ্যেই গত ২৮ আগস্ট ৭৪ বছর বয়সে মারা যান শেখ আব্দুল হাকিম।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর চার মাস পর মাসুদ রানা সিরিজের লেখক হিসেবে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি মিলল হাইকোর্ট থেকে।

প্রখ্যাত চিন্তাবিদ অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের ছেলে কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৬ সালে সেবা প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজ লেখা শুরু করেন। দ্রুত তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তী সময়ে কাজী আনোয়ার হোসেন চুক্তির ভিত্তিতে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শেখ আব্দুল

হাকিমসহ অন্য কয়েকজন লেখককে দিয়ে ‘মাসুদ রানা’ লেখাতেন। তবে ‘বাজারজাত করার স্বার্থে’ অন্যদের লেখা বইগুলো কাজী আনোয়ার হোসেন নিজের নামেই প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে কোনো সমস্যার কথা জানা না গেলেও ২০১০ সালে মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি বইয়ের মালিকানা স্বত্ব দাবি করে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন লেখক-অনুবাদক শেখ আব্দুল হাকিম। ৯ বছরে কোনো সুরাহা না হওয়ায় গত বছর ২৯ জুলাই তিনি কপিরাইট অফিসে অভিযোগ করেন। তিন দফা শুনানি ও তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের আলোকে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় কপিরাইট অফিস।

গত বছর ১৪ জুন কপিরাইট অফিস সিদ্ধান্ত দেয়, ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি বই এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আব্দুল হাকিমই এগুলোর স্বত্বাধিকারী। তবে বেশির ভাগ বইয়ের মালিকানা হারালেও ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের স্রষ্টা হিসেবে চরিত্রটি কাজী আনোয়ার হোসেনের মালিকানায় থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দেয় কপিরাইট অফিস।

কপিরাইট অফিসের সে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত বছর হাইকোর্টে রিট করেছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। সে রিটের প্রাথমিক শুনানির পর গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল দেন। ‘এখতিয়ারবহির্ভূত’ বিবেচনায় কপিরাইট অফিসের ওই রায় কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সংস্কৃতিসচিব, কপিরাইট অফিস, রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস এবং কপিরাইট বোর্ডকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সব পক্ষের শুনানি শেষে গতকাল সেই রুল খারিজ করে রায় দিলেন হাইকোর্ট। ফলে কপিরাইট অফিসের দেওয়া সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।

এ রায় সম্পর্কে গতকাল প্রয়াত শেখ আব্দুল হাকিমের মেয়ে শেখ আপালা হাকিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের একটাই বক্তব্য, আইন তার নিজস্ব পথে এগিয়েছে এবং সত্যের জয় হয়েছে। আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন। এই রায়ের কথা শুনে যেমন খুশি হয়েছি, তেমনি কষ্টও হচ্ছে। বাবা বেঁচে নেই, এটা বারবার মনে হচ্ছে। ’

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ। কপিরাইট অফিসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও ইফতাবুল কামাল অয়ন। খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর ১৪ জুন কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার কপিরাইটসংক্রান্ত আদেশ দিয়েছিলেন যে কুয়াশা সিরিজের বইগুলো জব্দ থাকবে। আজ উচ্চ আদালতে রুল খারিজ হয়ে সেটিই প্রমাণ করলেন সেগুলো জব্দই থাকবে। এ রায়ের ফলে কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্তই বহাল রাখলেন উচ্চ আদালত। আদালত এও বলে দিয়েছেন, কাজী আনোয়ার হোসেন কোনো প্রতিকার চাইলে কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুযায়ী জেলা অথবা দায়রা জজ আদালতে যেতে পারবেন। ’ পরে কাজী আনোয়ার হোসেনের আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ বলেন, ‘আদালত মালিকানা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। আর আবেদনকারী কপিরাইট আইনের অধীন জেলা বা দায়রা কোর্টে প্রতিকার চাইতে পারেন বলে অবজারভেশন দিয়েছেন। ’

 



সাতদিনের সেরা