kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইনিংস হারেই শেষ সিরিজ

► পাকিস্তান : ৩০০/৪ ডি.
► বাংলাদেশ : ৮৭ ও ২০৫
► ফল : পাকিস্তান ইনিংস ও ৮ রানে জয়ী
► সিরিজ : পাকিস্তান ২-০তে জয়ী

মাসুদ পারভেজ   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইনিংস হারেই শেষ সিরিজ

মাথার ওপর প্রায় সারাক্ষণই ছাতা ধরে থাকল পাকিস্তান। বাংলাদেশের জন্য সেটি সুরক্ষার ছাতা নয় অবশ্য, উল্টো চাপে চিড়েচ্যাপটা হওয়ার। সফরকারীদের সাজানো আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংয়ে ক্ষণে ক্ষণে কোণঠাসা স্বাগতিকদের জন্য ম্যাচ বাঁচানোর যুদ্ধ হয়ে উঠল আরো কঠিন।

কঠিন সেই যুদ্ধে টিকে থেকে শেষ করার আশাও জেগেছিল।

বিজ্ঞাপন

যাঁদের ব্যাটে সেই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল, তাঁদের একজন মেহেদী হাসান মিরাজের পণ্ডশ্রমে আবার দেখা যেতে শুরু করল হারের খাদ, যেখান থেকে আর ফেরা হলো না মমিনুল হকের দলের। ৮৭ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়া দলের টপ অর্ডার আবারও ব্যর্থ। সেখান থেকে একাধিক জুটি জমে যেমন, তেমনি অসময়ে ভাঙেও। ভাঙতে ভাঙতে ভাঙে শেষ স্বীকৃত জুটিও। সেটি ভাঙার পর দলও আর এগোয় না খুব। ২০৫ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত ডুবতে হয় ইনিংস ও ৮ রানে হারের লজ্জায়ই।

প্রথম ইনিংসে যে শটে আউট হয়েছিলেন, মিরাজ অকারণেই আবার তা খেলতে গেলেন। তা-ও আবার কাকে? নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই ম্যাচেই প্রথম বল হাতে নেওয়া পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমকে।

তাঁর অফস্পিনে সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে হলো না মিরাজের (৭০ বলে ১৪ রান), লাগল প্যাডে। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় পাকিস্তান রিভিউ নেওয়ার পর দেখা গেল, বল মিডল স্টাম্পেই লাগত। ব্যস, ভাঙল সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তাঁর ১৩৯ বলে ৫১ রানের জুটিও। অথচ ওই শট খেলার আগে পাকিস্তানের একমাত্র ইনিংসের রান (৩০০) পেরিয়ে যাওয়ার খুব কাছেই ছিল বাংলাদেশ। লাগত আর মাত্র ১৬ রান। কিন্তু মিরাজের বিদায়ের পর মাত্র ৭ রান তুলতেই বাকি ৩ উইকেটও হারান তাঁরা।

এই ইনিংসেই দ্রুততম সময়ে (৫৯ টেস্টে) ২০০ উইকেট ও ৪ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়া সাকিবও পরের ওভারেই অনুসরণ করেন মিরাজকে। সোজা বলে পেছনের পায়ে ডিফেন্স করার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে বোল্ড হওয়া এই অলরাউন্ডার (১৩০ বলে ৬৩) পরিণত হন এই ম্যাচে অফস্পিনার সাজিদ খানের দশম শিকারে। শেষ ভরসা হয়ে থাকা সাকিবের বিদায়ে হারের প্রহরও গুনতে শুরু করেন স্বাগতিকরা। তবু শেষ উইকেটে এবাদত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আশার সলতে কিছুটা জ্বালিয়ে রাখেন তাইজুল ইসলাম।

একদিকে একের পর এক বল ডিফেন্স করে যাচ্ছিলেন তাইজুল আর অন্যদিকে আম্পায়াররাও লাইট মিটারে আলোর অবস্থা দেখে নিচ্ছিলেন। হিসাবে আরো ৫.২ ওভার বাকি ছিল, কিন্তু আলোর স্বল্পতায় খেলা আরো আগেই ড্রয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু ১২৮ রানে ১২ উইকেট নিয়ে এই ম্যাচকে নিজের করে নেওয়া সাজিদ আর তা হতে দিলেন না। প্রথম ইনিংসে ৪২ রানে ৮ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে পাকিস্তানের চতুর্থ সেরা বোলিং করা এই অফস্পিনার তাইজুলকে (৩১ বলে ৫) এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেই স্টাম্প তুলে নিয়ে ছুট লাগান। সেটি আগের দিন বলা কথা রাখতে পারার আনন্দেও। বাংলাদেশকে আরেকবার অলআউট করে জেতার লক্ষ্যে যে তিনিই পৌঁছে দিলেন দলকে।

এর আগে সকালে ৭ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে শুরু করা বাংলাদেশের গুটিয়ে যেতে লাগে মাত্র ৬ ওভারই। বাকি ৩ উইকেটের দুটি তুলে নিয়ে সাজিদ গড়েন টেস্টে কোনো পাকিস্তানি অফস্পিনারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও। ফলোঅনে পড়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটার আবারও দেন ব্যর্থতার পরিচয়। এই সিরিজে আগের তিন ম্যাচে ৪৯, ২৫ ও ৩১ রানে প্রথম চার উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ ইনিংসেও ২৫ রান স্কোরবোর্ডে জমা হতে না হতেই নেই ৪ উইকেট।

সেখান থেকে একটা করে জুটি জমে, জাগে আশাও। আবার পাল্লা দিয়ে সেই আশাও রূপ নেয় হতাশায়। মুশফিকুর রহিম আর লিটন কুমার দাসের (৮১ বলে ৪৫) ১৫০ বলে ৭৩ রানের জুটিটাই যেমন। সাজিদের নিরীহ এক ডেলিভারিতে তুলে মারতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ হন লিটন। চা বিরতির আগে শেষ বলেও ভাঙে সাকিবের সঙ্গে মুশফিকের (১৩৬ বলে ৪৮) ১১৪ বলে ৪৯ রানের জুটি। তা-ও আবার রান আউটে।

জুটি গড়া আর ভাঙার এই খেলা শেষ হয় মিরাজকে দিয়ে, যেটি ভাঙতে না ভাঙতেই ফিরে যান সাকিবও। বাংলাদেশের জন্যও খুলে যায় আড়াই দিনেই ইনিংস হারের দুয়ার!



সাতদিনের সেরা