kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান ও তাঁর স্ত্রীসহ ১৩ জন নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান ও তাঁর স্ত্রীসহ ১৩ জন নিহত

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও তাঁর স্ত্রীসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার তাঁদের বহনকারী একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার তামিলনাড়ুর নীলগিরি জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারটির ১৪ জন আরোহীর মধ্যে শুধু একজন গ্রুপ ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হলেও বেঁচে গেছেন।

তাত্ক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

তবে একজন সাবেক পাইলট জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

ভারত সরকার ২০১৯ সালে প্রতিরক্ষাপ্রধান (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ—সিডিএস) পদটি সৃষ্টির পর বিপিন রাওয়াত প্রথম এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পদটি সৃষ্টি করা হয়েছিল। জেনারেল রাওয়াতকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো।

রাশিয়ায় তৈরি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। গুরুতর অবস্থায় বিপিন রাওয়াতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক খবরে পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানিয়ে বলা হয়েছিল, পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয় বোঝা যাচ্ছে না।

দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক টুইটে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, দুর্ভাগ্যজনক ওই ঘটনায় জেনারেল বিপিন রাওয়াত, মিসেস মধুলিকা রাওয়াত এবং হেলিকপ্টারে থাকা আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ’ আরোহীদের মধ্যে বেঁচে গেছেন কেবল গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে নীলগিরি বনের একটি চা বাগানের ওপর ভেঙে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারটি। এ সময় এলাকাটি কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। কৃষ্ণস্বামী নামের কুন্নুরের এক বাসিন্দা জানান, প্রথমে তিনি একটি বিকট আওয়াজ পান। আওয়াজ শুনে ঘর থেকে বেরোতেই দেখেন একটি হেলিকপ্টার নিচে পড়ছে। পড়ার সময় একটি গাছে ধাক্কা লাগলে মুহূর্তে তাতে আগুন ধরে যায়। তাঁরা হেলিকপ্টারের দিকে ছোটেন। সেখানে পৌঁছে দেখতে পান কয়েকজন হেলিকপ্টারটি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দেহের বেশির ভাগই দগ্ধ। এর পরই উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন সবাই। পরে ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

গতকাল সকালে দিল্লি থেকে আকাশপথে কোইমবাটুরের সুলুর সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন জেনারেল রাওয়াত। দুপুরে সেখান থেকে নীলগিরির ওয়েলিংটনের ডিফেন্স স্টাফ কলেজে যাওয়ার পথে তাঁদের বহন করা হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। হেলিকপ্টারে জেনারেল রাওয়াত ও তাঁর স্ত্রী ছাড়া ছিলেন কমান্ডো এবং বিমানবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে জেনারেল রাওয়াতের বাসভবনে যান। সেখানে তিনি প্রতিরক্ষা প্রধানের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে।

পারিবারিক ঐতিহ্য : জেনারেল রাওয়াতের পরিবারের কয়েক প্রজন্ম ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে চাকরি করেছেন। ১৯৫৮ সালের ১৬ মার্চ উত্তরাখণ্ডের পৌড়ির এক গঢ়ওয়ালি রাজপুত পরিবারে জন্ম বিপিনের। বাবা লক্ষ্মণ সিং রাওয়াত ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল। বিপিন রাওয়াত ১৯৭৮ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি বেশ কিছুদিন ভারতশাসিত কাশ্মীরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে তাঁর ভূমিকা ছিল। তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ১৩ লাখ সদস্যের বিশাল সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এমআই-১৭ হেলিকপ্টার : ১৯৭০-এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটির প্রথম ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোতে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়। এটি শক্তিশালী ইঞ্জিনের জন্য সুপরিচিত। গত কয়েক বছরে এটি কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। গত মাসে মধ্য এশিয়ার আজারবাইজানে এই মডেলের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান ১৪ জন। ২০১৯ সালে ইন্দোনেশিয়ায় এমআই-১৭ দুর্ঘটনায় নিহত হন চার সেনা।

ভারতের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গতকালের ওই দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে। সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা।

 



সাতদিনের সেরা