kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অমিতেরও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কুষ্টিয়া   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অমিতেরও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই

রায়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন আবরারের মা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছেলে আবরার ফাহাদ রাব্বীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রাজপথে নানা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন বরকত উল্লাহ। আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে প্রায় দুই বছর ঢাকা আর কুষ্টিয়ায় যাতায়াত করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবু দমে যাননি। অবশেষে ছেলে হত্যার বিচার পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিচার পেয়েছে পরিবার। নিহত আবরারের মা-বাবা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তবে অমিত সাহাসহ বাকি আসামিদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি চান তাঁরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ  ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে মারা যান। হত্যার দুই বছর তিন মাস পর গতকাল বুধবার আদালত রায় দিলেন।

অসুস্থ থাকায় ছেলে আবরার হত্যার রায় শুনতে ঢাকায় আসতে পারেননি রোকেয়া খাতুন। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায় টেলিভিশনে রায় শোনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যায় জড়িত সব আসামির ফাঁসি আশা করেছিলাম, কিন্তু আদালত ২০ জনের ফাঁসি ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন দিয়েছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রায়ে আমরা খুশি। তবে আসামি অমিতের ফাঁসি না হওয়ায় আমরা মর্মাহত। ’

রোকেয়া আরো বলেন, ‘অমিতেরও ফাঁসির আদেশ দিয়ে দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হলে আমরা পুরোপুরি খুশি হব। মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদেরও ফাঁসির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। ’

স্ত্রী অসুস্থ, ছোট ছেলের পরীক্ষা। তাই বরকত উল্লাহ গতকাল একাই রায় শুনতে আদালতে হাজির হন। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকলে শতভাগ সন্তুষ্ট হব। এ রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।  একই সঙ্গে পলাতক মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। ’

আবরারের বাবা বলেন, ‘এভাবে রাজনীতির নামে একটি ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করা যেতে পারে না। এমন চলতে থাকলে আমার মতো অনেকেই সন্তানহারা হবে। আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারে ঘুরছি। মনে হচ্ছে আইনের শাসন পাব। ’

ছেলে আবরারকে হত্যার পর থেকে বিচার দাবিতে সেচ্চার ছিলেন বরকত উল্লাহ। মামলা করে একের পর এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। বলে গেছেন, তাঁর ছেলে শিবির করতেন না।

 



সাতদিনের সেরা