kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

লক্ষ্যহীন ব্যাটিংয়ে ফলোঅনের মুখে

► পাকিস্তান : ৯৮.৩ ওভারে ৩০০/৪ ডি.
► বাংলাদেশ : ২৬ ওভারে ৭৬/৭
► (চতুর্থ দিনের শেষে)

মাসুদ পারভেজ   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লক্ষ্যহীন ব্যাটিংয়ে ফলোঅনের মুখে

পাকিস্তান পেসারদের দিয়ে বোলিং করিয়ে গেলে তখনই চতুর্থ দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। আলোর স্বল্পতায় যে ততক্ষণে জোরে বল দেখা মুশকিল হয়ে গিয়েছিল ব্যাটারদের জন্য। বাবর আজম তাই পরের ২৫ ওভার শুধুই স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করিয়ে গেলেন। মেঘলা আবহাওয়ায় পেসারদের খেলতে হচ্ছে না বলে ব্যাপারটি স্বস্তিরই হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু তা না হয়ে উল্টো অস্বস্তির কাঁটাই বিঁধতে থাকল স্বাগতিকদের শরীরে। তাতে আম্পায়াররা ২৩ ওভার আগেই দিনের খেলার সমাপ্তি টানার সময়ও মমিনুল হকের দল রক্তাক্ত। এমনই যে ম্যাচের আড়াই দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পরও হারের শঙ্কা চোখ রাঙাচ্ছে। ৪ উইকেটে ৩০০ রান তুলে পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর শাহীন শাহ আফ্রিদির করা প্রথম ওভারটির পর পেসাররা আর আক্রমণেই এলেন না। মাত্র চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা অফস্পিনার সাজিদ খানও যে মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছিলেন, বিষয়টি এমনও নয়।

তবু দিনের শেষে ৭৬ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে থাকা বাংলাদেশ ফলোঅনে পড়ার মুখেই দাঁড়িয়ে। তা এড়াতে হলে আজ শেষ দিনের সকালে করতে হবে আরো ২৫ রান। হাতে ৩ উইকেট এবং সাকিব আল হাসান (২৩*) ব্যাটিংয়ে থাকার পরও ফলোঅন এড়ানোর নিশ্চয়তা হতে পারছেন না। কারণ শুরু থেকেই ছটফট করতে থাকা এই অলরাউন্ডারও আউট হতে হতে বেঁচেছেন বারদুয়েক। তাঁর আগে পাগুলে ব্যাটিংয়ে অন্যরাও ডেকে এনেছেন বিপর্যয়। বাজে শটের প্রদর্শনীতে এবং নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসার প্রবণতায় যে ম্যাচ নিষ্প্রাণ ড্রয়ের দিকে এগোনোর কথা, সেটিতেই এখন ফল হওয়ার মতো প্রাণ ফিরিয়েছে স্বাগতিকরা।

বৃষ্টি পুরো তৃতীয় দিনটি কেড়ে নেওয়ার পর চতুর্থ দিনের সকালের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় কিছুটা প্রাণের ছোঁয়া পায় বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণও। এই সময়েই টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও ফুরাল খালেদ আহমেদের। ৪১৮ বল করার পর নিজের তৃতীয় টেস্টে এসে পেলেন প্রথম শিকারের দেখা, বাবর আজমকে (৭৬) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে। এর আগেই এবাদত হোসেন ফেরান আজহার আলীকে (৫৬)। দিনের প্রথম সেশনে পাওয়া ওই দুই সাফল্যই শেষ বাংলাদেশের। অবিচ্ছিন্ন ১০৩ রানের জুটিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের (৫২*) পর ফাওয়াদ আলমের (৫০*) ফিফটি হয়ে যেতেই দান ছাড়ে পাকিস্তান।

নিজেদের পালার শুরুতে শাহীন শাহ আফ্রিদির একমাত্র ওভারেও চোখে-মুখে অন্ধকার দেখেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে তাতে কিছুটা আলোর স্বল্পতার যোগ ছিল। মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট জ্বালিয়েও পেসারদের বল দেখার মতো পর্যাপ্ত আলো ছিল না। আক্রমণ থেকে পেসার সরে যেতেই ব্যাটিং অনেকটা সহজ হয়ে যাওয়ার কথা তাই। দ্বিতীয় ওভারে আসেন বাঁহাতি স্পিনার নুমান আলী, পরের ওভারে সাজিদ।

এসেই আঘাত হানেন এই অফস্পিনার। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে তাঁর বল ডিফেন্স করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য দিয়েই দুঃস্বপ্নের টেস্ট অভিষেক মাহমুদুল হাসান জয়ের। একই বোলারকে রীতিমতো উইকেট উপহার দিয়ে যান অন্য ওপেনার সাদমানও। অফস্টাম্পের বাইরের নিরীহ বলে কাট করেন কোনো ফুটওয়ার্ক ছাড়াই। তাই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় সাদমানের (২৮ বলে ৩) ইনিংস। এরপর যেন সীমিত ওভারের ম্যাচে রান তাড়ার তাড়াহুড়ায় পেয়ে বসে অধিনায়ক মমিনুলকে (১)। তাঁর রানআউটে ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয় ঘনীভূত হয় আরো। তবে সেটি আর কেউ কমাতে পারেননি, বরং বাড়িয়েছেন। মমিনুলের মতোই যেন বড্ড তাড়া ছিল মুশফিকেরও (৫)। নাজমুল হোসেন শান্তর মতো কয়েকবার বেঁচে গিয়েও তাই সাবধানী নন, বরং উচ্চাভিলাষীই। সাজিদের বল স্লগ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন শর্ট মিড উইকেটে। একই রকম আত্মঘাতী চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান লিটন কুমার দাসও (৬)। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে সাজিদকে দেন রিটার্ন ক্যাচ। বারবার বেঁচে যাওয়া নাজমুল শান্তর (৩০) জন্য এরপর এলবিডাব্লিউর ফাঁদ পেতে সফল পাকিস্তানি অফস্পিনার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পান ৫ উইকেটের স্বাদ। তাঁকে সুইপ করতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ (০) বোল্ড হওয়ায় দিনের শেষে সাজিদের নামের পাশে দেখাচ্ছে ৩৫ রানে ৬ উইকেট।

৩৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবার বোলিং করা বাবর আজমের নামের পাশেও থাকতে পারত উইকেট। তাইজুল ইসলাম আউট হতে হতে বেঁচে যাওয়ায় সেটি আর পাননি পাকিস্তান অধিনায়ক। এত কিছুর পর কে বলবে যে মেঘলা আবহাওয়ায় স্পিনাররা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক?

 



সাতদিনের সেরা