kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সিপিডির সংলাপ

সামনে এগোতে দরকার সুনির্দিষ্ট বাণিজ্য কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামনে এগোতে দরকার সুনির্দিষ্ট বাণিজ্য কৌশল

সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ, বৈদেশিক বাণিজ্যনীতি ও রপ্তানি কৌশল এখনই ঠিক না করলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশেই আটকে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেন্টার পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনে মুস্তাফিজুর রহমান এই মন্তব্য করেন।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, ‘আমরা হয়তো এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েশন ঠিকই করব, কিন্তু মধ্যম আয়ের দেশের স্তরেই আটকে পড়ার আশঙ্কা আছে। আমাদের অবশ্যই আঞ্চলিক বাজারে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এ জন্য রপ্তানিমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাবসায়িক পরিকল্পনার দিকে নজর রাখতে হবে। ’

ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর অনেক দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, তারা এলডিসি থেকে উত্তরণ করেছে ঠিকই, কিন্তু মধ্যম আয়ের দেশের স্তরে আটকা পড়েছে। সেই দিক থেকে আমাদের সচেতন হতে হবে। ’

ড. মুস্তাফিজ আরো বলেন, ‘কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই সব দেশ তাদের বাণিজ্যনীতি ঠিক করতে পারেনি। সেদিক থেকে আমাদের ভুল করলে চলবে না। আঞ্চলিক বাজার দখলের পাশাপাশি এখন থেকেই আমাদের শুল্কমুক্ত বাজারের চুক্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যাঁরা নীতি তৈরি করবেন, তাঁদেরও বাণিজ্যনীতি জানতে হবে। দক্ষ শ্রমবাজার গড়ে তুলতে হবে। ’

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর অনেক পরিবর্তন এসেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তার একটি অন্যতম কারণ নব্বইয়ের দশকের দিকে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা। তখন কেউ এসব কথা বলেনি, এখন বলছে। এখনো আমরা এই সুবিধা নিতে চাই। তবে মাথায় রাখতে হবে, শুধু বেসরকারি খাত আর প্রবাস আয় দিয়ে আমাদের অর্থনীতির চাকা বেশিদিন সচল রাখা যাবে না। ’

ওয়াহিদউদ্দিন আরো বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের সঙ্গে কিছু ক্ষতিও হয়েছে। গত ৩০ বছরে দেশে যে শিক্ষার ক্ষতি হয়েছে, তা কি আগামী ৩০ বছরে পূরণ হবে? পাশাপাশি আমাদের ব্যাংকিং খাতেও অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। ’

এ সময় বৈশ্বিক বাজার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সব দিকেই নজর দিতে হবে। দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি নতুন নতুন ব্যাবসায়িক ক্ষেত্র খুলতে হবে। বৈশ্বিক বাজারে নতুন পণ্যকে পরিচিত করতে হবে। ’

এ সময় ‘অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫০ বছরে পদার্পণে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশ হলেও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে। বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক অনেক দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। আমাদের সুশাসন, আইনের প্রয়োগ, এনবিআরের সক্ষমতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন। আমরা এই দুর্বল প্রতিষ্ঠান নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারব না। অবশ্যই আমাদের রাজস্ব আয় ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ’

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আরো যুক্ত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো রওনাক জাহান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. খান আহমেদ সৈয়দ মুরশিদ, বিশ্বব্যাংকের সাবেক বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. খান আহমেদ সৈয়দ মুরশিদ প্রমুখ।

 

 



সাতদিনের সেরা