kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আলোকস্বল্পতা আর বৃষ্টির প্রথম দিন

পাকিস্তান : ৫৭ ওভারে ১৬১/২ (প্রথম দিনের শেষে)

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আলোকস্বল্পতা আর বৃষ্টির প্রথম দিন

মিরপুরের উইকেট রক্তশূন্যতায় ভুগছে দীর্ঘদিন! না, প্রাণের অভাব নেই, উইকেট তো পড়েছে টপাটপ। তবে সমস্যা হলো, এত দিন একতরফা ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররা আর বেঘোরে প্রাণ দিয়েছেন ব্যাটাররা! তবে গতকাল টেস্ট শুরুর দিনে মিরপুরের উইকেট কিছুটা সজীব। নিখাদ স্পোর্টিং না হলেও ব্যাটে-বলের লড়াইয়ের এমন মঞ্চ মিরপুরে সহসা দেখা যায়নি। তবে দিনশেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মমিনুল হকের কথাই তো ঠিক; উইকেট যেমনই হোক, ভালো ক্রিকেটারেরই জয় হয়। বৃষ্টির পর আলোকস্বল্পতায় মাত্র ৫৭ ওভারের প্রথম দিনে সেটির সমর্থনই করেছেন বাবর আজম ও তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তান অধিনায়ক প্রত্যাশিতভাবে রংতুলিতে ছবি আঁকছেন মিরপুরের ২২ গজে, আর বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার যেন নীরব চিৎকারে জানাচ্ছেন, আপাত ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও লাইন-লেন্থ ঠিক রাখলে সাফল্য মেলে।

চট্টগ্রাম টেস্টের সময় মিরপুরের উইকেটের সম্ভাব্য চরিত্র নিয়ে দলের ভেতরে বিস্তর কথাবার্তা হয় বলে জানা গিয়েছিল। প্রথমে অনন্যোপায় বাংলাদেশ দলে মিরপুরে মাইনফিল্ড বানিয়ে ফাটকা খেলার পরিকল্পনা হয়েছিল। হারের ভয় তো এমনিতেই আছে, যদি টিপিক্যাল মিরপুর উইকেটে পাকিস্তানকে কুপোকাত করা যায়! অবশ্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পর সেই চিন্তা বাদ দিয়ে ব্যাটিং উইকেটের পক্ষেই মতামত গেছে মিরপুরের কিউরেটরের কাছে। টস জিতে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দেখা গেল, দলের চাওয়া এবং কিউরেটরের মাঠ প্রস্তুতিতে এবার তেমন গরমিল হয়নি।

বরং মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে প্রথম ওভারেই জোরালো আবেদন করেছিলেন এবাদত হোসেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই একবার আম্পায়ারের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন বাংলাদেশি এই পেসার। মিরপুরে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সময় এসব দৃশ্য খুব নিয়মিত নয়। যদিও ম্যাচের পর অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ আক্ষেপ করেছেন, ‘আবহাওয়া পক্ষে ছিল। নতুন বলে পেসাররা যদি দুই প্রান্ত থেকে চাপ অব্যাহত রাখতে পারত, তাহলে প্রথম ঘণ্টাতেই দুটি উইকেট নিতে পারতাম হয়তো। তাহলে ভালো অবস্থানে থাকতাম আমরা।’

অতিশয়োক্তি করেননি মিরাজ। এবাদত একটু ওপরে স্টাম্প সোজা বল রেখে পাকিস্তানের দুই ওপেনার আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিককে চাপে রেখেছিলেন ঠিকই। কিন্তু অন্য প্রান্তে আরেক পেসার খালেদ আহমেদ লাইন-লেন্থের গোলমালে সেই চাপ আলগা করে দিয়েছেন। ক্রিকেটে বোলিং জুটিরও বিপুল চাহিদা। দুই প্রান্ত থেকে ব্যাটারকে চাপে রাখলে উইকেট তুলে নেওয়ার কাজটা সহজ হয়ে যায়।

যেমনটা হয়েছে তাইজুল ইসলাম ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাকিব আল হাসানের বোলিং জুটির সময়টায়। চট্টগ্রামের ফর্ম ঢাকাতেও টেনে এনেছেন তাইজুল। প্রথম দিনেই উইকেট থেকে টার্ন আদায় করেছেন। তাই টার্নের আশায় থাকা ব্যাটারকে টার্নের আশায় রেখে বোকাও বানিয়েছেন তাইজুল। পাকিস্তানের দুই ওপেনারই তাঁর ফাঁদে পা দিয়েছেন। ১৭ ওভারের স্পেলে ৪৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে তাইজুলই বাংলাদেশের শুধু সফলতমই নন, কার্যকর বোলারও।

চট্টগ্রামে দুই ইনিংসেই শতরানের জুটি গড়া আবিদ আলী ও শফিকের ৭০ রানের মধ্যেই বিদায়ে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল বাংলাদেশ দলে, সেটি অবশ্য দীর্ঘস্থায়িত্ব পায়নি। সাকিবের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের তৃতীয় সদস্য মিরাজ কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি গতকাল। তাই দীর্ঘ সময় অস্বস্তি নিয়েও টিকে আছেন আজহার আলী। তবে বাংলাদেশ দলের শরীরী ভাষা দেখলেই বোঝা যায়, প্রতিপক্ষ দলের একজন ব্যাটারই তাঁদের চিন্তাজুড়ে। তিনি বাবর আজম।

চোখ-রাঙানি নেই, তবে যে কর্তৃত্বের সঙ্গে ক্যারিয়ারের ১৯তম ফিফটি করে ফেলেছেন বাবর, তা যেকোনো প্রতিপক্ষের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে। এক প্রান্তে আজহার আলী যতটা আস্থাহীন, তার চেয়ে বহুগুণ নির্ভার বাবর। মিরপুরের উইকেট যেন নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। তবে একবার সুযোগ কি দিয়েছিলেন? সাকিবকে ডাউন দ্য উইকেট খেলতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ তুলেছিলেন। দারুণ চেষ্টায় সেটি ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুতে নিয়েছিলেনও তিনি, কিন্তু রাখতে পারেননি শেষমেশ। তবে এই দায়ে খালেদকে কাঠগড়ায় তোলার কোনো যুক্তি নেই, বরং চেষ্টার জন্য সাধুবাদ প্রাপ্য তাঁর।

সাধুবাদ প্রাপ্য উইকেট প্রস্তুতকারীরও, প্রথম দিনেই মিরপুরের উইকেটকে ব্যাটারদের বধ্যভূমি মনে হয়নি যে। আবার শৃঙ্খলা দিয়ে তাইজুল জানিয়েছেন, বোলারদের জন্যও একেবারে নিষ্ফলা নয় মিরপুরের এই উইকেট।



সাতদিনের সেরা