kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঢাকা টেস্ট শুরু আজ

পুরনো চ্যালেঞ্জই নতুন করে

মাসুদ পারভেজ   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পুরনো চ্যালেঞ্জই নতুন করে

দক্ষতার প্রকাশে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল অনেক। চট্টগ্রাম টেস্ট শেষ হওয়া মাত্র মমিনুল হক জানিয়ে দিয়েছিলেন যে মাত্র দুই দিনের অনুশীলনে সেগুলো শুধরে নেওয়া অসম্ভব। একটি ব্যাপারই শুধু সম্ভব বলে মনে হয়েছিল তাঁর কাছে। সেটি কী? দৃঢ় মনোবল আর মানসিকতা নিয়ে নেমে নিজেদের উজাড় করে দেওয়া পারফরম্যান্স। গত কিছুদিনের টানা হারে জর্জর দলের জন্যও যা কম বড় চ্যালেঞ্জ নয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টও তাই বাংলাদেশ শুরু করছে সেই চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়েই।

এর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের নতুন বলের দুই বোলারকে সামলানোও। চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের ২০ উইকেটের ১৪টিই তুলে নিয়েছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী। প্রথম ইনিংসে পরেরজন ৫ উইকেট নিয়ে দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছেন তো পরের ইনিংসে প্রথমজন। তাঁদের জুটি বেঁধে করা বোলিংয়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটিংও ভেঙে পড়েছে দুই ইনিংসেই। চট্টগ্রামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ৪৯ রানেই হারায় প্রথম ৪ উইকেট। তবু লিটন কুমার দাস আর মুশফিকুর রহিমের দুই শ ছাড়ানো পার্টনারশিপে শেষ রক্ষা হয়েছিল প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয় ইনিংসে তা-ও নয়। এবার অবস্থার অবনতি হয় আরো। এবার ২৫ রানের মধ্যেই প্রথম চার ব্যাটারকে হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি স্বাগতিকদের।

ঘুরে দাঁড়াতে দেয়নি শাহীন-হাসান জুটিই। চলতি বছর যাঁরা দুজনেই নিজ নিজ সাফল্যে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নাম। আট টেস্ট খেলে এই বছর ৪৪ উইকেট শাহীনের। ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে যা সব দেশ মিলিয়েই যৌথভাবে সর্বোচ্চ। সাত টেস্ট খেলে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ উইকেটও হাসানের। এমন সফল জুটির তরফ থেকে আগাম হুংকারে তাই স্বাগতিক শিবিরে ভয়ের শিরশিরে অনুভূতিও ছড়িয়ে পড়া বিচিত্র নয়। গতকাল বিকেলের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শাহীন নিজেই বলছিলেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টেও আমরা আগের ম্যাচের মতোই পারফরম করতে চাই।’

এর প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগেই হয়ে গেছে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনও। যেখানে চট্টগ্রামের তুলনায় দলীয় শক্তির তারতম্য ফুটিয়ে তুলতেও বেশ উৎসাহীই মনে হলো মমিনুলকে। হওয়ারই কথা। চোট কাটিয়ে সাকিব আল হাসান যে আবার ফিরেছেন দলে। মমিনুল টেস্টে নেতৃত্বই পেয়েছিলেন ২০১৯ সালে এই অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ার পর। তাঁর অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের খেলা ১০ টেস্টের মাত্র দুটোতেই সাকিবকে পেয়েছিলেন মমিনুল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এর একটিতে আবার চোটের জন্য পুরো ম্যাচে তাঁকে পাওয়াও যায়নি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সাকিবকে ছিটকে দেওয়া হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট তাঁকে খেলতে দেয়নি পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও। তাঁকে এবার ফিরে পাওয়ায় মমিনুলের কণ্ঠে বাড়তি ‘বল’ও ঘোষিত হলো, ‘সাকিব ভাই দলে এলে সব কিছুই একটু সহজ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাঁর সব কিছুই ঠিকঠাক আছে, আমি ঠিকঠাকই দেখেছি। উনি এলে অধিনায়ক হিসেবে আমি নির্ভার থাকি। তাঁর ব্যাটিং-বোলিং দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ। টিম কম্বিনেশনের জন্যও তাঁর থাকাটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।’

ইতিবাচক এই অর্থে যে সাকিব থাকলে একজন বাড়তি বোলার কিংবা ব্যাটার নিয়ে নামতে পারে বাংলাদেশ। সাকিবের মতো চোট কাটিয়ে ফিরেছেন ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদও। তাঁর ডান হাতের সেলাই কাটা হলেও গত দুই দিন অনুশীলন করেছেন টেপ পেঁচিয়েই। এই অবস্থায় তাঁকে খেলানো নিয়ে মমিনুলের রক্ষণশীল মনোভাবই বলে দিচ্ছে যে তাসকিনকে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে। তাঁকে বাইরে রাখলেও সাকিবের জন্য ব্যাটে-বলে শক্তি বাড়ছে বাংলাদেশের। মমিনুলও জানিয়ে রেখেছেন যে, ‘সাকিব ভাই আসায় আমরা সাত ব্যাটার আর চার বোলার নিয়ে নামার চিন্তাভাবনা করছি।’ সে ক্ষেত্রে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজও থাকলে বাংলাদেশের একাদশে একজন পেসারকেও দেখা যেতে পারে। অবশ্য বাংলাদেশের জন্য এক পেসার নিয়ে নামা নতুন নয় মোটেও। আর টাইফয়েডের জন্য সাইফ হাসান দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ওপেনিংয়ে ‘বাঁহাতি-ডানহাতি কম্বিনেশন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি’ বলে মমিনুলের ঘোষণায় তরুণ টপ অর্ডার ব্যাটার মাহমুদুল হাসানের অভিষেকের সম্ভাবনাও।

ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানোর ভাবনায় অধিনায়কের ভরসাও এখনো ব্যাটিংই। তা চট্টগ্রামে যতই টপ অর্ডার ব্যাটাররা ডোবান না কেন, ‘আমার কাছে টেস্ট ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা সব সময়ই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো একটা শুরু করতে পারলে ভালো। আর সবাই জানে যে আমাদের শক্তির জায়গাই হলো ব্যাটিং। যদি আমরা ছয় সেশন ব্যাটিং করতে পারি, তাহলে ম্যাচে ফিরতে পারব। অবশ্যই জেতার আশা করি। কেউ তো ম্যাচ হারার জন্য নামে না, জেতার জন্যই নামে।’   

জেতার জন্য নেমে এবার পাকিস্তানকে আটকাতে পারলেও দেশের মাঠে দারুণ এক ধারা ধরে রাখা হয় মমিনুলদের। ২০১১ সালে পাকিস্তান এখান থেকে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচের পর একমাত্র টি- টোয়েন্টিও জিতে যাওয়ার পর আর কোনো দলই পায়নি এ সাফল্য। এর পর থেকে নিজেদের মাঠে একাধিক সংস্করণে আর কখনোই সব ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ। এত দিন পর এবার সেই পথেই থাকা মমিনুলদের সামনে সেটি রুখে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও থাকছে!



সাতদিনের সেরা