kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ছাত্র বিক্ষোভের জেরে কুয়েট বন্ধ ঘোষণা

খুলনা অফিস   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্র বিক্ষোভের জেরে কুয়েট বন্ধ ঘোষণা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) বন্ধ ঘোষণার পর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গতকাল শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। ছবি : কালের কণ্ঠ

এক শিক্ষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) সাময়িক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে সিন্ডিকেটের জরুরি সভা শেষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পরই শিক্ষার্থীদের একাংশ এর প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। অবশ্য এ সময় ছাত্রলীগের নামধারী কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের

আগেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যাপক সেলিম হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুর পরই ছাত্রলীগ নামধারী কিছু শিক্ষার্থীর মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ  শুরু করেন।

ড. সেলিমের মৃত্যু নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও অভিযোগ করেছেন, তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর বাবা শুকুর আলী গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে মারা যায়নি, তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে মিথ্যা বলা হচ্ছে। আমি এর বিচার চাই।’ 

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সকাল ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেনের অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই একটি কুচক্রী মহল সাধারণ শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে অসত্য তথ্য দিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে।

লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান বলেন, ‘সেলিম হোসেন স্যারের অকাল মৃত্যুতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর এই শূন্যস্থান কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু একটি মহল তথ্য-প্রমাণ ব্যতিরেকে প্রাণপ্রিয় শিক্ষকের অকালমৃত্যুর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতার যোগসূত্র ঘটিয়ে আমাদের মানসিক ট্রমার মধ্যে ধাবিত করেছে। এটি এককথায় জঘন্য ও ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের শামিল। আমরা এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি।’

ওই শিক্ষককে মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সেজান বলেন, ‘সেদিন সেলিম স্যারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের আপ্যায়িত করেছেন। তাঁকে কোনো বিষয়ে চাপ প্রয়োগ ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।’ 

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি গতকাল এক বিবৃতিতে অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. ওয়ালিউল হাসানাত ও সাধারণ সম্পাদক ড. তানজিল সওগাত স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, একদল শিক্ষার্থী এই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। এ ঘটনায় কুয়েটের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সেলিম হোসেন মারা যান। তিনি ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দোষী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষকরা।

ড. সেলিম দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। ২০০০ সালে বাঁশগ্রাম ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০০২ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে স্টার নম্বর নিয়ে পাস করেন। এরপর কুয়েটে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষে সেখানেই তিনি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর বৃত্তি নিয়ে জাপানে এক বছর এবং পরে অস্ট্রেলিয়ায় চার বছর পড়াশোনা করেন। তিনি স্ত্রী সাবিনা খাতুন ও জান্নাতুল ফেরদৌস নামের পাঁচ বছরের একমাত্র মেয়েকে রেখে গেছেন।



সাতদিনের সেরা