kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ

দিশাহারা গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্ট ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু ব্যক্তি আলেশা মার্টের ‘কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তুলেছে’ বলে অভিযোগ এনে গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফেসবুক পেজে অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

আলেশা মার্টে টাকা দিয়ে পণ্য না পেয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গ্রাহকরা টাকার জন্য ভিড় করছিলেন। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিল।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবারও বনানীতে আলেশা মার্টের বন্ধ অফিসে ভিড় করেন অনেক গ্রাহক। সেখানে পুলিশের পাহারা দেখা গেছে।

ফেসবুক পেজে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দাবি করেন, তাঁরা অল্প অল্প করে গ্রাহকদের চেক ও টাকা দিচ্ছেন। অফিস বন্ধ থাকলেও তাঁদের কার্যক্রম চলবে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, গত ২০ অক্টোবর থেকে অন্তত ১৭ হাজার গ্রাহককে রিফান্ডের (টাকা ফেরত) নামে চার কোটি টাকার চেক দিয়েছে আলেশা মার্ট কর্তৃপক্ষ। মোবাইল ফোনে মেসেজ (বার্তা) পাঠিয়ে সামান্য কিছু গ্রাহককে টাকা ফেরতও দিয়েছে। বেশির ভাগ গ্রাহকই দিনের পর দিন ঘুরছেন। গত বুধবার কয়েকজন ব্যক্তি অফিস থেকে চলে যাওয়ার সময় উপস্থিত গ্রাহকরা জানতে পারেন, কর্মীদের চড় দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ৭ নভেম্বর হঠাৎ ভবনের ঝুঁকির কথা বলে অফিসে কাস্টমার সার্ভিস বন্ধ করে দেয় আলেশা মার্ট। পরে গ্রাহকদের উপস্থিতি বাড়লেই অফিস বন্ধ করে দেয়। হামলার নাটক সাজিয়ে গ্রাহকদের চাপ এড়াতে অফিস বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার রাতে আলেশা মার্টের ফেসবুক পেজের পোস্টে বলা হয়, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আলেশা মার্টের সব অফিশিয়াল কার্যক্রম আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। গতকাল অফিসে কিছু লোক অফিস কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তোলা এবং বল প্রয়োগের চেষ্টার কারণে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। ’

জানতে চাইলে গতকাল বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আলেশা মার্টে হামলা হয়েছে এমন কোনো তথ্য বা অভিযোগ আমরা পাইনি। ’

গতকাল দুপুরে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর প্রসাদ ট্রেড সেন্টারের চতুর্থ তলায় আলেশা মার্টের বন্ধ অফিসের সামনে কিছু গ্রাহককে দেখা গেছে, যাঁদের অন্তত ১০ জন বুধবার ঘটনার সময় ছিলেন। তাঁদের একজন সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘এটা কেমন হামলা হলো, কী হলো আমরা বুঝিতে পারিনি। সাত-আটজন লোক অফিস এলো। অফিসে তাদের ২৫-৩০ জন স্টাফ। তাঁরা দেখি বের হয়ে যাচ্ছেন। পরে শুনি তাঁদের অফিসার জাহিদ সাহেবকে নাকি তিনটি চড় দিয়েছে। লোকগুলো নাকি বনানীর স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোক। এটি রহস্যজনক। ’

আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মনজুর আলম শিকদারের ফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র চারদিকে। আমরা একমাত্র ই-কমার্স, যারা এখনো গ্রাহকের টাকা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য সব সময় ভালো ছিল। ’

মনজুর আলম আরো বলেন, ‘যত ষড়যন্ত্র হোক, আমাদের ফুল অপারেশন চলবে। যদি অফিস বন্ধ থাকে তবু আমাদের কোনো কার্যক্রম বন্ধ হবে না। আমাদের লোকজন আপনার বাসায় যাবে ফোন করে। আপনাদের এসএমএস দেবে এবং প্রতিনিয়ত আপনাদের সঙ্গে যোগযোগ থাকবে। ’

সিআইডি সূত্র জানায়, ই-কমার্সের মোট ৪৬ মামলায় ১১২ আসামির মধ্যে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ই-অরেঞ্জ, ধামাকাশপসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা হয়েছে। অনুসন্ধান চলছে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এই তালিকায় আলোচিত ইভ্যালির সঙ্গে আলেশা মার্টের নাম আছে।

সম্প্রতি আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠের কাছে স্বীকার করেন, তাঁর কাছে সাত হাজার ৩০০ গ্রাহক মোটরসাইকেলের টাকা পান। তাঁদের একটি ঋণ নিয়ে সমস্যা হয়েছে। সেটি মিটে গেলে তাঁরা গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবেন।

তবে কয়েকজন গ্রাহক দাবি করেন, ২০ অক্টোবর থেকে পাওনাদারদের প্রতিদিন গড়ে এক হাজার করে ১৭ হাজার চেক দেওয়া হয়েছে।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আসা হাফিজউল্লাহ নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘আমাকে একটি মোটরসাইকেলের অগ্রিম দেওয়া এক লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ টাকার চেক দিয়েছে। চেকের ডেট চলে গেলেও টাকার হদিস নেই। এখন এসে দেখি অফিসই বন্ধ। ’

 

 



সাতদিনের সেরা