kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

এই বিশ্ব গণহত্যার দায়মুক্তি দেবে না

রোহিঙ্গা নিধনের বিচারের জন্য আইনি লড়াইয়ে নেমেছে বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (ব্রুক)। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরুর উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখান থেকে মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হোক—এমনটি চান সংগঠনটির সভাপতি তুন খিন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই বিশ্ব গণহত্যার দায়মুক্তি দেবে না

তুন খিন

কালের কণ্ঠ : আর্জেন্টিনার আদালত বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘সর্বজনীন এখতিয়ার’ নীতি গ্রহণ করে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু করেছেন। বিশ্বের নিপীড়িত অন্য জনগোষ্ঠীর জন্য এটা কী বার্তা দিচ্ছে?

তুন খিন : শুধু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্যই নয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিপীড়নের শিকার প্রত্যেকের জন্য এটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথম কোনো বিচারিক আদালত হিসেবে আর্জেন্টিনার আদালত রায় দিয়েছেন যে তাঁরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে পারবেন। এটি বিশ্বজুড়ে নিপীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের আশার আলো দেখাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টিনার আদালতের সিদ্ধান্ত থেকে প্রমাণ হয়, ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ। তবে ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব নয়।

 

কালের কণ্ঠ : এখন আপনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? আপনারা এরই মধ্যে মামলা করেছেন, নাকি মামলা করতে হবে?

তুন খিন : আর্জেন্টিনার আদালত এরই মধ্যে মামলা গ্রহণ করেছেন। বিচারিক প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ব্রুকের তদন্তও শুরু হয়েছে। আমরা সাক্ষ্য জোগাড় করার কাজে ব্যস্ত আছি। আমরা এটি বড় পরিসরেই করতে চাই। ভয়ংকর অপরাধগুলোর পেছনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য সংগ্রহ করা বড় কাজ। ওই ব্যক্তিদের অনেকেই মিয়ানমারের সামরিক জান্তার জ্যেষ্ঠ সদস্য।

 

কালের কণ্ঠ : গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা এখন মূলত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। আর বিচার বসছে আর্জেন্টিনায়। এই মামলার চ্যালেঞ্জগুলো কী কী? আপনারা কিভাবে আদালতে সাক্ষীদের হাজির করবেন?

তুন খিন : রোহিঙ্গারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারছে—এটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বিশ্বের সামনে তাদের ওপর সংঘটিত নিপীড়নের কথা জানানোর অধিকার আছে। আমরা চাই, রোহিঙ্গারা আর্জেন্টিনার আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিক। কভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধের মতো কারণগুলোর জন্য যদি এটি সম্ভব না হয়, তবে আমরা বিকল্প খুঁজব। এ ক্ষেত্রে আমরা ভার্চুয়ালি সাক্ষ্য দেওয়ানোর জন্য চেষ্টা করব।

 

কালের কণ্ঠ : ধরা যাক, মামলার কোনো এক পর্যায়ে আর্জেন্টিনার আদালত মিয়ানমারের জেনারেলদের হাজির হওয়ার আদেশ দিলেন। স্বাভাবিকভাবে জেনারেলরা তা তোয়াক্কা করবেন না। তখন কী হবে? গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তা কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে?

তুন খিন : আর্জেন্টিনায় আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারের সুযোগ নেই। তাই যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের আদালতে উপস্থিত হতেই হবে। আর্জেন্টিনার আদালত যদি আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আর তা যদি আমলে নেওয়া না হয়, তাহলে ব্রুক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগাবে। শেষ পর্যন্ত ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার প্রয়োজন হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য জেনারেলদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করানো।

 

কালের কণ্ঠ : মিয়ানমারের ঘটনায় আর্জেন্টিনার আদালতে বিচারের প্রভাব কতটুকু? কারণ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) প্রক্রিয়া চলছে।

তুন খিন : মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য দায়ীদের ঘিরে ফেলা জালের পরিসর ছোট হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ, এটা ঠিক। কিন্তু ন্যায়বিচারকে বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের সম্ভাব্য সব উদ্যোগ কাজে লাগাতে হবে। বাস্তবতা হলো, আইসিসি, আইসিজে, আর্জেন্টিনায় একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব ব্যাপক হবে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের প্রচেষ্টাগুলো সত্যিকারের ফল পেতে শুরু করেছে। রাতারাতি কিছু হবে না সত্য। তবে আমি নিশ্চিত, অপরাধীদের শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এই বিশ্ব গণহত্যার দায়মুক্তি দেবে না।

 

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশ ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয়ই শুধু দেয়নি, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের জবাবদিহি প্রক্রিয়ায়ও সহযোগিতা করেছে। রোহিঙ্গা গণহত্যার জবাবদিহি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকাকে কিভাবে দেখেন?

তুন খিন : গণহত্যার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং আশ্রয় দেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক বিচার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় হতে পারে। রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহে সহযোগিতা করতে পারে বাংলাদেশ।

 



সাতদিনের সেরা