kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নিহত

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নিহত

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে মামলার ১১ আসামির তিনজন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের মদদদাতাদের ধরতে মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিল নিহত কাউন্সিলর রাসেলের পরিবার। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন নিহত হওয়ায় সেই সম্ভাবনা কমে গেল বলে মনে করছে তারা।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিমের ভাষ্য মতে, গত বুধবার দিবাগত রাতে চানপুরস্থ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি থানার পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পিস্তল হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম বলে শনাক্ত করে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গোলাগুলিতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। শাহ আলম নিহত ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওসি আরো বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহ আলমের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে নগরীর টিক্কারচর কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী বলছে, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহ আলম নিহত হওয়ায় ঘটনার পেছনের মদদদাতা বা পরিকল্পনাকারী কেউ থাকলে তাদের সামনে আনার সম্ভাবনা কমে গেল। কারণ তাঁর নেতৃত্বে কাউন্সিলর রাসেলকে হত্যা করা হয়েছে।

কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শাহ আলম গ্রেপ্তার হোক। সে গ্রেপ্তার হলে সব রহস্য উন্মোচিত হতো। এত বিপুল ও আধুনিক অস্ত্রের জোগানদাতা, অর্থদাতা, তাদের উদ্দেশ্য এবং নেপথ্যে কারা? আমরা চাই, এসব তথ্য প্রকাশ হোক। ’

তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ থাকলে অবশ্যই তদন্তে বেরিয়ে আসবে। শাহ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, পুলিশের ওপর হামলাসহ নানা অপরাধের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৯টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম, ২ নম্বর আসামি সোহেল মিয়া ওরফে জেল সোহেল, ৩ নম্বর আসামি মো. সাব্বির হোসেন, ৫ নম্বর আসামি সাজন, এজাহারবহির্ভূত স্থানীয় যুবক নাজিম ও ফেনী থেকে আসা অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। তাঁদের মধ্যে ১ নম্বর, ৩ নম্বর ও ৫ নম্বর আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত এজাহারবহির্ভূত নাজিম ও ফেনীর যুবক সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

সন্দেহভাজন আরেক যুবক গ্রেপ্তার

কাউন্সিলরসহ দুই খুনের ঘটনায় গত বুধবার রাতে ইমরান খন্দকার (২০) নামের সন্দেহভাজন আরো এক যুবককে সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নগরীর সুজানগর এলাকার আবুল বাশারের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, ইমরানের মামাতো ভাই মামলার ৮ নম্বর আসামি জিসান। ঘটনার দিন এই দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ব্যাগ অস্ত্রে ভরতে সহযোগিতা করেন। তারপর ব্যাগ তিনটি তাঁদের কাছে রেখে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

গত ২২ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে নগরীর পাথরিয়াপাড়ায় নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা। এ ঘটনায় সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।



সাতদিনের সেরা