kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

স্বজনদের প্রতিক্রিয়া

কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে

৯ বছর ধরে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে আমিনবাজারে বেড়াতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ছয় ছাত্রের পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের দেওয়া রায়ে সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে বলে জানালেন নিহতদের স্বজনরা। তাঁরা আসামিদের শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশীর কেবলার চরে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, ছাত্রদের অন্যায়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রাজধানীর দারুসসালামসহ আশপাশের এলাকায় এসব নিহত ছাত্রের পরিবার বসবাস করে। নিহত ও আহত পাঁচজনের স্বজনরা গতকাল রায়ের দিন আদালতে যান।

নিহত ছয় ছাত্রের একজন টিপু সুলতান ছিলেন তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর মা  কাজী নাজমা সুলতানা রায়ের পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সব আসামির ফাঁসি আশা করেছিলাম। তাহলে আরো খুশি হতাম। তবু এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। মেরে অপবাদ দিয়েছে। এত দিন কষ্ট পেয়েছি। যত দিন বেঁচে থাকব কষ্ট পাব। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা দ্রুত কার্যকর করা হোক, এখন দাবি এটিই। ’

আরেক নিহত ছাত্র মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ইব্রাহিম খলিলের বাবা আবু তাহের আদালত প্রাঙ্গণে বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দোষীদের সাজা হয়েছে। মিথ্যার মৃত্যু হয়েছে। সত্যের বিজয় হয়েছে। তবে আশা, রায়টা যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। ’

বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নিহত তৌহিদুর রহমান পলাশের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমাদের মনে অনেক আক্ষেপ। এখন রায় বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ’

ঘটনার দিন আলআমিন হামলার সময় গুরুতর আহত হন। নিহত ছয়জন তাঁর বন্ধু ছিলেন। তিনি না এলেও তাঁর বাবা হবি ব্যাপারী গতকাল আদালতে আসেন। রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে (আলআমিন) এমনভাবে মারধর করা হয়েছিল, সে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। আশা ছিল, ছেলেকে আইনজীবী বানাব। কিন্তু তা আর পূরণ হলো না। তবে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা খুশি। এখন এ রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক। ’

বাঙলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত সেদিন পিটুনিতে প্রাণ হারান। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাঁর বাবা আবদুল কাদের সুরুজ বলেন, ‘মামলাটির রায়ে আমি সন্তুষ্ট, দীর্ঘদিন পরে হলেও রায় হয়েছে। প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক। ’

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারে ডাকাত আখ্যা দিয়ে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত অন্য শিক্ষার্থীরা হলেন—ধানমণ্ডির ম্যাপললিফের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম এবং মিরপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব।



সাতদিনের সেরা